Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুই বর্ধমানের জঙ্গলে বেড়েছে নেকড়ে, অভয়ারণ্য গড়তে চায় বনদপ্তর

অবিভক্ত বর্ধমানের জঙ্গলে এক সময়ে দাপিয়ে বেড়াত নেকড়ে। পরবর্তীকালে তাদের আর চিহ্ন মেলেনি। শেষ পাঁচ বছরে বনদপ্তরের ফের নজরে এসেছে নেকড়ের উপস্থিতি।

দুই বর্ধমানের জঙ্গলে বেড়েছে নেকড়ে, অভয়ারণ্য গড়তে চায় বনদপ্তর
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর: অবিভক্ত বর্ধমানের জঙ্গলে এক সময়ে দাপিয়ে বেড়াত নেকড়ে। পরবর্তীকালে তাদের আর চিহ্ন মেলেনি। শেষ পাঁচ বছরে বনদপ্তরের ফের নজরে এসেছে নেকড়ের উপস্থিতি। তাদের প্রাণ রক্ষায় ‘উইংস’-এর সঙ্গে হাতে মিলিয়ে বনদপ্তর গবেষণা শুরু করে। জঙ্গলে বসানো হয় ট্র্যাপ ক্যামেরা। তাতেই ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শিল্পাঞ্চল ও কাঁকসার জঙ্গলে রয়েছে নেকড়ের একটি দল। তাদের চলাফেরার করিডরে গড়ে উঠছে কারখানা। যার ফলে ফের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে বসেছে নেকড়ের দলের। পাশাপাশি, এলাকায় নগরায়ন হতে থাকায় এবং শিল্পাঞ্চল বেড়ে চলায় নেকড়ের দল জঙ্গল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারছে না। বাধ্য হয়েই পোষ্যপ্রাণীদের আক্রমণ করছে। এতে মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। এখন এই প্রাণীকূলকে রক্ষা করাই চ্যালেঞ্জ বনদপ্তরের কাছে। 

Advertisement

বুধবার ছিল ওয়ার্ল্ড উলফ ডে বা বিশ্ব নেকড়ে দিবস। এদিন সেই উপলক্ষ্যে দুর্গাপুরের সৃজনী হলে একটি সেমিনার হয়। সেখানে বনদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি একাধিক বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই দুই বর্ধমানে নেকড়ে নিয়ে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সেখানে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেভাবে এলাকাজুড়ে নগরায়ন, খনি সম্প্রসারণ ও শিল্পায়ন হচ্ছে তাতে নেকড়েদের বাসভূমি সঙ্কুচিত হয়ে উঠছে। বাধ্য হয়েই বন লাগোয়া গ্রামের ছাগল, ভেড়ার উপর হামলা চালাচ্ছে তারা। তার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আউশগ্রামের দেবশালায় একটি নেকড়েকে পিটিয়ে মারার বিষয়টিও সামনে আসে। কিন্তু এরই মধ্যে আশার আলোও আছে। বন এলাকায় লাগাতার প্রচারের ফলে মানুষের সচেতনতা বেড়েছে। যদিও তাদের প্রজননকালে ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে মানুষের উপস্থিতি। দেখা গিয়েছে, দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের মাধাইগঞ্জের জঙ্গলে কিছু নেকড়ে রয়েছে। আর একটি দল রয়েছে কাঁকসা ব্লকের গড়জঙ্গলের বিষ্টুপুর এলাকায়। কাটাবেড়িয়া দিয়ে দু’টি জায়গায় তারা যাতায়াত করে। সেই রাস্তাতেই একটি কারখানা গড়ে উঠছে। যা নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে বনদপ্তরের। কিন্তু এই এলাকায় কোনও স্যাংচুয়ারি বা হেরিটেজ ফরেস্ট সাইট নেই। বনভূমির বাইরে দপ্তরের ক্ষমতা সীমিত। তাই নেকড়ে ও হায়নার উপস্থিতি সামনে এনে বায়ো-ডাইভারসিটি হেরিটেজ সাইট গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওয়েস্ট বেঙ্গল বায়ো ডাইভারসিটি বোর্ড এলাকা পরিদর্শন করে গিয়েছেন। দুর্গাপুরের ডিএফও অনুপম খান বলেন, পূর্ব মেদিনীপুরের লাল কাঁকড়া বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছিল। আমরা সেখানে বায়ো ডাইভারসিটি হেরিটেজ সাইট করে রক্ষা করতে পেরেছিলাম। এক্ষেত্রেও সেই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য এখানে নেকড়ের অভয়ারণ্য গড়া যা এখনও পর্যন্ত দেশে মাত্র দু’টি আছে। বনদপ্তরের ওএসডি কল্যাণ দাস বলেন, এই অঞ্চলে নেকড়ের উপস্থিতি চিহ্নিত করে তাদের নিয়ে গবেষণা করা অত্যন্ত বড় কাজ। তাদের সংখ্যা বাড়ার তথ্যই সামনে আসছে। তাদের রক্ষা করা আমাদের প্রাথমিক কাজ।  প্রতীকী চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ