সংবাদদাতা, করিমপুর: বাইক চুরি থেকে পথ দুর্ঘটনার মতো একাধিক ঘটনায় পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল করিমপুর বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরা। অথচ বসানোর এক বছরের মধ্যেই ৩২ টি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র দু’টি সচল রয়েছে বলে অভিযোগ।
সংবাদদাতা, করিমপুর: বাইক চুরি থেকে পথ দুর্ঘটনার মতো একাধিক ঘটনায় পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল করিমপুর বাজারের সিসিটিভি ক্যামেরা। অথচ বসানোর এক বছরের মধ্যেই ৩২ টি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র দু’টি সচল রয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর বাজারে একের পর এক বাইক চুরি-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা এবং পথ দুর্ঘটনার পর বাজার এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। করিমপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে প্রায় ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা খরচ করে নাটনা মোড় থেকে বাজিতপুর পর্যন্ত মোট ৩২ টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। ২০২৫ সালের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে পুরানো বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ক্যামেরাগুলির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল। ক্যামেরাগুলি চালুর পর থেকেই বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নজরদারি বাড়ে। বাইক চুরি, পথ দুর্ঘটনা এবং দুষ্কৃতীদের গতিবিধি সংক্রান্ত একাধিক ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের তদন্তে কাজে এসেছে বলে ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে দাবি। কিন্তু বর্তমানে সেই নজরদারি ব্যবস্থাই কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে দাবি, ৩২টি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র দু’টি সচল রয়েছে। ফলে বাজারের অধিকাংশ অংশই সিসিটিভি নজরদারির বাইরে চলে গিয়েছে। পুজোর মরশুমে বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় বাড়ার পাশাপাশি বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসেন। সেই সময় চুরি, ছিনতাই বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সিসিটিভির সাহায্য নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
জানা গিয়েছে, ক্যামেরাগুলির মনিটরিংয়ের দায়িত্ব ছিল করিমপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি এবং করিমপুর থানার। তবে ক্যামেরাগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব করিমপুর ১ ও করিমপুর ২ পঞ্চায়েতের হাতে দেওয়া হয়েছিল বলে ব্যবসায়ী সমিতির দাবি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াতেই ধীরে ধীরে সেগুলি বিকল হয়ে যায় বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ প্রভাত কর্মকার বলেন, সবার নিরাপত্তার কথা ভেবেই এত টাকা খরচ করে ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি নষ্ট হয়ে গেল। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এতগুলি ক্যামেরা সচল রাখা সম্ভব নয়।
সমিতির সম্পাদক সুবোধ কুমার রায় বলেন, ক্যামেরাগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দু’টি পঞ্চায়েতের উপর ছিল। কিন্তু তাঁরা সেই দায়িত্ব পালন করেনি। স্থানীয় পঞ্চায়েত রক্ষণাবেক্ষণে খরচা না করার ফলে একে একে ক্যামেরাগুলি বিকল হয়েছে। এই অভিযোগের বিষয়ে করিমপুরের বিজেপি বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, খুব দ্রুত ক্যামেরাগুলি সচল করার চেষ্টা করব। করিমপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলির বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।