Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেওয়াল লিখন শুরু হওয়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে, বেশি আয়ের আশায় শিল্পীরা

এখন জোরকদমে চলছে ভোটের প্রচার ও দেওয়াল লিখন। সেই দেওয়াল লিখনে শিল্পীদের এখন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। এই সময় তাঁরা দুটো টাকার মুখ দেখতে পান।

দেওয়াল লিখন শুরু হওয়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে, বেশি আয়ের আশায় শিল্পীরা
  • ২৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: এখন জোরকদমে চলছে ভোটের প্রচার ও দেওয়াল লিখন। সেই দেওয়াল লিখনে শিল্পীদের এখন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। এই সময় তাঁরা দুটো টাকার মুখ দেখতে পান। তাই সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও এখন খুশি শিল্পীরা। সব দল তাঁদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দুই একটি বাদে। সব রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। তারসঙ্গে চলছে জোরকদমে চলছে দেওয়াল লেখার কাজ। এই সময় সব রাজনৈতিক দলের কাছে শিল্পীদের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা কিছু দেওয়াল লিখলেও বেশিরভাগ দেওয়াল লেখেন শিল্পীরা। তাঁরা জানান, সারা বছর লেখার কাজ থাকে না। আগে দোকান স্কুলে লেখার কাজ সারা বছর থাকত। এখন সেই ভাবে কাজ হয় না। এই ভোটের সময় আমাদের যা কাজ হয়। সেটা পঞ্চায়েত লোকসভা বা বিধানসভা ভোট হোক। এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখন বা চিহ্ন আঁকতে আমাদের ডাক পরে। 

Advertisement

শিল্পী প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, ভোটের কটা দিন আমাদের চাহিদা থাকে। এই সময় আমরা দুটো টাকা উপায় করি। এখন রাত দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়াল লিখছি।। আমরা তিনজন এই দেওয়াল লিখনের কাজ করছি। যদিও পরিশ্রমের তুলনায় টাকা অনেক কম।  
রাত প্রায় ১২টার সময় দেওয়াল লিখন করছিলেন শিল্পী সমর বিশ্বাস।  সমরবাবু বলেন, বছরের অন্য সময় আমি অনুষ্ঠান বাড়িগুলিতে ফুলের কাজ করে সংসার চালাই। শুধু ভোটের সময় এই লেখার কাজ করি। তাই রাত দিন পরিশ্রম করে সময়ে কাজ তুলে দিতে হয়। আগে দলের কর্মীরা আলোর ব্যবস্থা করত। এখন রাতে টর্চ বা মোবাইলের আলোতে দেওয়াল লিখতে হয়। এই সময় এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে খাওয়া নাওয়ার সময় থাকে না। আমরা টাকার জন্য সব দলের দেওয়াল লিখি। তাঁর অনুযোগ, এখন ডিজিটাল পোস্টার, ফেস্টুন হওয়ায় আগের তুলনায় দেওয়াল লেখার কাজও কমেছে।  
এই বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী দিলীপ পোদ্দার বলেন, কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে দেওয়াল লেখেন। কেউ ভালবেসে দেওয়াল লেখেন। তবে যে সব দেওয়াল সব সময় মানুষের নজরে থাকে সেই দেওয়াল গুলি শিল্পীদের দিয়ে লেখানো হয়। 
সিপিএম প্রার্থী সুবোধ বিশ্বাস বলেন, আমাদের কর্মীরাই বেশিরভাগ দেওয়াল   লেখেন। যেখানে কর্মীরা লিখতে পারেন না সেখানেই শিল্পীদের দিয়ে লেখানো হয়।  
বিজেপির নদীয়া জেলা উত্তরের মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, সারা বছর তো এই রাজ্যে শিল্পীদের কোনো কাজ নেই। তাই ভোটের দিকে মুখ চেয়ে থাকেন তাঁরা। এই সময়ই তাঁরা কাজ পান।  দেওয়াল লিখন সুন্দর না হলে মানুষের চোখে পড়ে না। কোন রঙের সঙ্গে কোন রং দিলে মানুষের চোখে পড়বে সেটা শিল্পীরা ভাল জানেন। মানুষের নজর যাতে দেওয়ালে পড়ে সেজন্য শিল্পীদের দিয়ে দেওয়াল লিখানো হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ