নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পুজো মানে মিলনের পুণ্যভূমি। এখন মেলামেশার পথ গড়ে দেয় থিমের আকর্ষণ। থিম নিজেও মিশিয়ে দেয় বাস্তবের সঙ্গে অবাস্তবকে। থিমের দাপটেই ডাঙায় গড়ে ওঠে সমুদ্রের তলদেশের জীবন। থিমের টানে মনের অন্দরমহলও দর্শন হয়ে যায়। পুজো মরশুম মানেই তাই এক অনন্ত রূপকথা। তাই রূপকথার নগরী হয়ে ওঠা রিষড়া দেখায় এক অভাবিত ‘রূপান্তর’। চেনা নগরী সামগ্রিকভাবে অপরূপ ময়দান হয়ে ওঠে যেখানে থিমের আদলেও ধরা দেয় রূপকথারা।
রিষড়ার নিউ তরুণ দল এবার জগদ্ধাত্রী পুজোয় এনেছে ‘রূপান্তর’ এর মায়া। ৪৩ বছর পার করা পুজো এক আদ্যন্ত রূপকথার দেশের আদলে তৈরি। সেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে ‘সাতভাই চম্পা’কে, খুঁজে নেওয়া যাবে ‘লাল ও নীলকমল‘কে। মজা হচ্ছে, উদ্যোক্তারা কোনও ঠাকুমার ঝুলি বা ভিনদেশের রূপকথাকে আধার করেননি। থিমের আশ্রয়, সলিল চৌধুরীর গান।
উদ্যোক্তা শুভজিৎ সরকার বলেন, ‘রূপকথার দেশ গড়ার ফাঁকে আমরা সলিল চৌধুরীর স্মৃতিতপর্ণও সেরে রেখেছি। সেটাও থিমের অন্য এক আকর্ষণ।’ পুজো মণ্ডপ গড়া হয়েছে তুলো এবং তুলোর সামগ্রী দিয়ে। লেপ, বালিশের দেখা মিলবে মণ্ডপসজ্জায়। সন্দেহ নেই সেসব ভিন্ন আদলে হাজির হবে। দেবী এখানে মৃন্ময়ী এবং সাবেক ধাঁচার। তবে তাঁকে আধুনিক করতে কিছু যান্ত্রিক কলাকৌশলও দেখা যাবে। থিমের সঙ্গে যুৎসই আলোকসজ্জা। মায়ানগরীর এক প্রান্তে যদি রূপকথার দেশ থাকে তবে অন্য প্রান্তে আছে আর এক কল্পনার ভূমি।
মনের মধ্যে যেমন আলো থাকে তেমনই গোপন গভীরে থাকে অন্ধকার। সে দুনিয়া দেখতে কেমন? নাহ্ সেসব বিশেষ জানা যায় না। তবে মনের অন্ধকারকে আলোকিত করাই যায়। এই ভাবনা থেকে শিসমহল গড়েছে সারদামাতা ফরোয়ার্ড ক্লাব। থিমের নাম, আলোকদ্যুতি। লোহার কাঠামোর ভাঁজে ভাঁজে বর্ণময় আলোর বিশেষ সজ্জাতেই গড়া হয়েছে আয়নামহল। পুজো উদ্যোক্তা অমৃতেন্দু লাহা বলেন, ‘আলোকিত মনই গড়তে পারে আলোকময় বিশ্ব। তাই মনের অন্ধকার দূর করতে আলোর মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। রকমারি আলোর বিশেষ সজ্জা দেখা যাবে আমাদের আয়নামহলে।’ উদ্যোক্তারা জানান, মণ্ডপে দেবী থাকবেন সাবেক সাজে। বহুবছর ধরে প্রতিমাকে রানি মা’র সম্মান দেওয়া হচ্ছে। ফলে সাজেসজ্জায় রানির শোভা ধরে রাখারই চেষ্টা হয়েছে।
রিষড়ার নিউ বালক সংঘ আবার সমুদ্রের তলদেশ ও সাগরপাড়ের জীবনকে মিলিয়ে এক অপরূপ-কথা তৈরি করেছে। মনোহর সাজের মণ্ডপে গেলে জলপরীরও দেখা মিলছে। রকমারি সঙ্গে ভাসমান মাছ তো আছেই। আছে কোরাল দ্বীপের শোভা, নৌকা, মৎস্যজীবী নারীপুরুষ। এই পুজোর উদ্যোক্তা রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেবী প্রান্তিক নারীর গড়নে অভিনব শোভায় বিরাজ করবেন। থাকবে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জাও।’
শহর সেজে উঠেছিল আগেই। রাতে আলোর মনোরম সজ্জায় তা রূপকথার নগরী হয়ে উঠেছে। আর নতুন জগদ্ধাত্রী কলোনির পথে প্রান্তরে থাকছে ছোট ছোট আরও অনেক রূপকথার কথকতা।