নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অন্ধকারে দৌড়চ্ছে কেল্টুদা। পিছনে তাড়া করছেন মাষ্টারমশাই। তা দেখছে হাঁদা-ভোঁদা। মজা নিচ্ছে। আলোকসজ্জার মাধ্যমে এই দৃশ্য ফুটে উঠেছে সোনারপুরের কোদালিয়া প্রসন্ন বঙ্গ হাইস্কুলের দেওয়ালে। নারায়ণ দেবনাথের অমর সৃষ্টি নন্টে-ফন্টে ও হাঁদা-ভোঁদা কমিক্স প্রতিটি বাঙালি শিশু-কিশোরের প্রিয়। এই কার্টুন দেখে মজা পায়নি এমন সংখ্যা বেশি নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর রস নিয়ে বড় হয়েছে। সোনারপুরের স্কুলটি সে কথা মাথায় রেখে আলো দিয়ে চরিত্রগুলি জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, দশম শ্রেণির দুই ছাত্র ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে কার্টুনের চরিত্রগুলি দেওয়ালে ফুটিয়ে তুলেছে। কেল্টুদা, হাঁদা-ভোঁদা তৈরি হয়েছে ম্যুরালে। তার মধ্যে বসানো হয়েছে রাইস লাইট (ছোট আকারের আলো)। সন্ধ্যার পর আলোগুলি জ্বালানো হয়। সারারাত ধরে জ্বলে। ফুটে ওঠে কার্টুন। পথচারীরা আলোকিত চরিত্রগুলি দেখে মজা পান। বাঙালির প্রিয় চরিত্রগুলি যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দেয়। স্কুলের সহকারী শিক্ষক পবিত্র গায়েন বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, বর্তমান প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের কমিক্স এবং নারায়ণ দেবনাথ সম্পর্কে অবহিত করা। তাছাড়া লেখকের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। সে উপলক্ষ্যে স্কুলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনও।’ এই উদ্যোগের ফলে শুধুমাত্র স্কুলের সৌন্দর্যই বাড়েনি। পড়ুয়াদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীলতাও সামনে এসেছে।’
এর পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে ছাত্ররা পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও এই আলোকসজ্জা এক নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র। রাতে স্কুলের পাশ দিয়ে গেলে দাঁড়িয়ে পড়ছেন পথচলতিরা। অভিনব এই আলোকসজ্জা দেখতে ভিড়ও হয়। কেউ চরিত্রগুলিকে রেখে সেলফি তোলেন স্মৃতি হিসেবে বাঁচিয়ে রাখতে। স্কুলের এই অভিনব উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অভিভাবকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশংসা করছেন। তাঁরা বলেন, এমন কাজ শুধুমাত্র স্কুলের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতাও বের করে আনে। নিজস্ব চিত্র