নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নাম কলিকাতা অন্ধ বিদ্যালয়। লোকমুখে এই স্কুল অবশ্য বেহালা ব্লাইন্ড স্কুল হিসাবেই পরিচিত। প্রায় ১৩৬ বছরের পুরানো এই স্কুল, তার ঐতিহ্য এখন অতীতের ছায়া মাত্র। জানা গিয়েছে, এখন মেরেকেটে ১০৫ জন পড়ুয়া রয়েছে। তার মধ্যে ২৮ জন ছাত্র এবং ৪৮ জন ছাত্রী হস্টেলে থাকে। বাকি ২৯ জন বাড়ি থেকে যাতায়াত করে। তবে, তাদের পড়ানোর জন্য রয়েছেন মাত্র দু’জন স্থায়ী শিক্ষক। অধ্যক্ষা ছাড়া রয়েছেন একজন কর্মশিক্ষার শিক্ষক। বাকিরা চুক্তির ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে নিযুক্ত। অনুমোদিত ৪৮টি পদের মধ্যে সব মিলিয়ে রয়েছেন ১৬ জন।
অভিভাবকদের একাংশের দাবি, শূন্যপদ পূরণের জন্য স্কুলের তরফে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। একজন প্রাক্তন শিক্ষক সাম্মানিকের বিনিময়ে পড়ান। অধ্যক্ষ লিসা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বামী দুষ্মন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় অবসর সময়ে হিসাব-নিকেশ এবং আর্থিক দিকটি দেখেন। প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পড়ুয়াদের স্ক্রিনটাইম কমানোর কথা বললেও প্রথা ভেঙে এখন ছেলেদের হস্টেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। ফলে তাদের অনেকেই পড়াশোনা ভুলে মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকে। অভিভাবকদের আরও দাবি, সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করেই অবসরপ্রাপ্তদের স্কুলে রেখে দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার অবসরপ্রাপ্তদের এক্সটেনশন দেওয়া বা পুনর্নিয়োগ নিষিদ্ধ করে আগেই অর্ডার দিয়েছে। সেসব উপেক্ষা করেই স্কুলের কাজকর্ম চলছে। এমনকি, স্কুলের নোটিসের খাতা বন্ধ করে দিয়েছেন অধ্যক্ষা।
স্থানীয়দের বক্তব্য, কাছাকাছি বেশ কয়েকটি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। অথচ, বাস্তবে তা কমেছে। এর জন্য স্কুলের অব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন তাঁরা। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অধ্যক্ষা বলেন, যাবতীয় অভিযোগ মিথ্যা। তবে, সরকারি নির্দেশের কারণে এর বেশি তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে বলতে পারবেন না। স্কুলের একটি সূত্রের দাবি, দৃষ্টিহীন ছাত্রছাত্রীদের জন্য অডিয়ো কনটেন্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে রাজ্য সরকার উচ্চ মাধ্যমিকের পড়ুয়াদের মোবাইল কেনার টাকা দিয়েছে। তাই এতে ভুল কিছু নেই। কলকাতা জেলা জনশিক্ষা প্রসারের আধিকারিক সুমন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগগুলির যথার্থতা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
আরেক আধিকারিক বলেন, অবসর গ্রহণ করলেও যে শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন, তিনি ১০০ শতাংশ দৃষ্টিহীন। তিনি কোনো কাজে নিযুক্ত থাকলে আইন অনুযায়ী সরকার তাঁকে সাম্মানিক বা যাতায়াতের খরচ দিতে বাধ্য। তাছাড়া, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরেই শূন্যপদ পূরণ হয়নি। ফলে স্কুল চালাতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্তদের ভরসাতেই থাকতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। তবে, এই সুপ্রাচীন স্কুলের এমন অবস্থা কেন হবে, দিনের পর দিন কেন শূন্যপদ পূরণ হবে না, অভিভাবকদের তোলা সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর এখনও মেলেনি।