Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাসপাতালে ভর্তি মা, উদ্বেগ নিয়ে আজ মাধ্যমিকে গোঘাটের পিয়ালি

হাসপাতালে ভর্তি মা। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে ছিল মেয়ে।

হাসপাতালে ভর্তি মা, উদ্বেগ নিয়ে আজ মাধ্যমিকে গোঘাটের পিয়ালি
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হাসপাতালে ভর্তি মা। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে ছিল মেয়ে। মাকে হাসপাতালে ফেলে পরীক্ষা দিতে যাওয়া কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল গোঘাটের সাওড়া গ্রামের পিয়ালি মণ্ডলের। খবর পেয়ে পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন খোদ আরামবাগের এসডিপিও। অসুস্থ মায়ের কাছে আয়া রেখে পরীক্ষার্থীকে গাড়িতে করে গোঘাটের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ। এসডিপিও বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর সামান্য অসুবিধার জন্য পরীক্ষায় বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, তা হতে দেওয়া যায় না। তাই তার পরীক্ষায় বসার জন্য সব রকমভাবে সাহায্য করছি। পিয়ালি বলে, পরীক্ষা দেওয়ার খুবই ইচ্ছে ছিল। কিন্তু, মায়ের কাছে আয়া রাখার মতো আর্থিক ক্ষমতা ছিল না। বাড়িতেও আর কোনও মহিলা সদস্য নেই। তাই আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু, অবশেষে পুলিশ সব ব্যবস্থা করে দেওয়ায় মনের জোর পেলাম।

Advertisement

পিয়ালির প্রতিবেশী দাদা সন্দীপ দাস বলেন, পিয়ালিদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। গ্রামের অনেকেই সামর্থ্য মতো সাহায্য করেছে। এদিন পুলিশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করে ওর পরীক্ষার ব্যাপারে যথেষ্ট সাহায্য পেয়েছি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ালির মায়ের কাছে দেখভালের জন্য একজন আয়ার ব্যবস্থা করে দেয় আরামবাগ থানার পুলিশ। তারসঙ্গে সন্ধ্যায় পিয়ালিকে বাড়ি পৌঁছে দিতেও গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। আজ, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। পিয়ালি যাতে বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, তার ব্যবস্থা করছে গোঘাট থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাওড়ার এলাকার বাসিন্দা রেখা মণ্ডল কিছুদিন ধরেই আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে ছিল মেয়ে পিয়ালি। বাড়িতে রয়েছেন পিয়ালির বাবা শ্রীমন্ত মণ্ডল ও তার ছোট ভাই। মায়ের কাছে থাকার মতো কোনও মহিলা বাড়িতে নেই। অগত্যা পরীক্ষার প্রস্তুতি ছেড়ে হাসপাতালে সে মায়ের সঙ্গে থাকছিল। রবিবার বিকেল পর্যন্ত পরীক্ষায় বসা কার্যত অনিশ্চিতই ছিল পিয়ালির। কিন্তু, পিয়ালির প্রতিবেশী কয়েকজন সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। তারপরই ঘটনার খবর পান আরামবাগের এসডিপিও। তাঁর ব্যবস্থাপনায় অবশেষে পিয়ালি আজ, পরীক্ষায় বসতে চলেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পিয়ালির বাবা পেশায় খেতমজুর। সামান্য জমি থাকলেও সব বছর চাষ হয় না। কাঁচা বাড়িতেই চার জনের পরিবারের একসঙ্গেই বসবাস। অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া ঘর। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে বরাদ্দ পেলেও সম্পূর্ণ হয়নি ঘরের কাজ। এমনকি, বিল দিতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবারও। দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করেই তাঁদের জীবন চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ