রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: বাবা পেশায় গাড়ির চালক। তিনিই প্রথম মেয়ের পায়ে তুলে দিয়েছিলেন ফুটবল। সেই প্রশ্রয়েই মেয়ে আজ ভারতীয় দলে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশে-বিদেশে। আরামবাগের মায়াপুর-২ পঞ্চায়েতের মহেশপুর এলাকার ‘ধন্যি মেয়ে’ অমৃতা ঘোষ এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলছে। দশম শ্রেণির ছাত্রীটি ইতিমধ্যেই নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, চীনেও খেলে এসেছে। কোথাও দলকে জিতিয়ে আনন্দ পেয়েছে। কোথাও আবার পরাজয়ের হতাশাও রয়েছে অমৃতার। এবার তার লক্ষ্য দেশের সিনিয়র দলের হয়ে খেলা। ফুটবলের মাঠে অমৃতার পজিশন ডিফেন্স। অমৃতা বলছে, ‘বাবা-মা কষ্ট করে আমার খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বড় হয়ে ক্রীড়া জগতেই নিজের কেরিয়ার গড়তে চাই। তার সঙ্গে লজ্জা, ভয় কাটিয়ে মেয়েরা যাতে মাঠমুখী হয়, সেই লড়াইও থাকবে।’ তবে, অমৃতার আক্ষেপ একটাই—খেলতে গেলে নানা ড্রাই ফ্রুটস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। গরিবের সংসারে সেই খাদ্য তলিকা মেনে চলা সম্ভব হয় না তাঁর। অমৃতার বাবা অসিত ঘোষ আরামবাগ আদালতে নিজেরই গাড়ি চালান। মা রুপালিদেবী গৃহবধূ। এক দাদা বর্তমানে আইন নিয়ে পড়ছেন। অসিতবাবুর রোজগারেই চলে সংসার। কিন্তু মেয়ের ফুটবলের পিছনে খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। কখনও বিমানের টিকিট কেটে মেয়েকে পাঠাতে হয় ভিন রাজ্যের স্টেডিয়ামে। আবার কখনও জুতো সহ নানা ক্রীড়া সরঞ্জামও কিনতে হয়। মাঝে মধ্যে অবশ্য ফুটবল কর্তৃপক্ষও পাশে দাঁড়ায়। অস্বীকার করছেন না অসিতবাবু। তিনি নিজেও এখনও ফুটবল খেলেন। বাড়ির কাছে মহিলাদের ফুটবল কোচিং সেন্টারও তৈরি করেছেন। মেয়েকে ফুটবলেই বহুদূর নিয়ে যেতে চান তিনি।



