Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাবার প্রশ্রয়ে ফুটবল পায়ে মাঠে, আরামবাগের ‘ধন্যি মেয়ে’ দাপাচ্ছে দেশ-বিদেশ

বাবা পেশায় গাড়ির চালক। তিনিই প্রথম মেয়ের পায়ে তুলে দিয়েছিলেন ফুটবল। সেই প্রশ্রয়েই মেয়ে আজ ভারতীয় দলে।

বাবার প্রশ্রয়ে ফুটবল পায়ে মাঠে, আরামবাগের ‘ধন্যি মেয়ে’ দাপাচ্ছে দেশ-বিদেশ
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: বাবা পেশায় গাড়ির চালক। তিনিই প্রথম মেয়ের পায়ে তুলে দিয়েছিলেন ফুটবল। সেই প্রশ্রয়েই মেয়ে আজ ভারতীয় দলে। দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশে-বিদেশে। আরামবাগের মায়াপুর-২ পঞ্চায়েতের মহেশপুর এলাকার ‘ধন্যি মেয়ে’ অমৃতা ঘোষ এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলছে। দশম শ্রেণির ছাত্রীটি ইতিমধ্যেই নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, চীনেও খেলে এসেছে। কোথাও দলকে জিতিয়ে আনন্দ পেয়েছে। কোথাও আবার পরাজয়ের হতাশাও রয়েছে অমৃতার। এবার তার লক্ষ্য দেশের সিনিয়র দলের হয়ে খেলা। ফুটবলের মাঠে অমৃতার পজিশন ডিফেন্স। অমৃতা বলছে, ‘বাবা-মা কষ্ট করে আমার খেলার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বড় হয়ে ক্রীড়া জগতেই নিজের কেরিয়ার গড়তে চাই। তার সঙ্গে লজ্জা, ভয় কাটিয়ে মেয়েরা যাতে মাঠমুখী হয়, সেই লড়াইও থাকবে।’ তবে, অমৃতার আক্ষেপ একটাই—খেলতে গেলে নানা ড্রাই ফ্রুটস ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। গরিবের সংসারে সেই খাদ্য তলিকা মেনে চলা সম্ভব হয় না তাঁর। অমৃতার বাবা অসিত ঘোষ আরামবাগ আদালতে নিজেরই গাড়ি চালান। মা রুপালিদেবী গৃহবধূ। এক দাদা বর্তমানে আইন নিয়ে পড়ছেন। অসিতবাবুর রোজগারেই চলে সংসার। কিন্তু মেয়ের ফুটবলের পিছনে খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। কখনও বিমানের টিকিট কেটে মেয়েকে পাঠাতে হয় ভিন রাজ্যের স্টেডিয়ামে। আবার কখনও জুতো সহ নানা ক্রীড়া সরঞ্জামও কিনতে হয়। মাঝে মধ্যে অবশ্য ফুটবল কর্তৃপক্ষও পাশে দাঁড়ায়। অস্বীকার করছেন না অসিতবাবু। তিনি নিজেও এখনও ফুটবল খেলেন। বাড়ির কাছে মহিলাদের ফুটবল কোচিং সেন্টারও তৈরি করেছেন। মেয়েকে ফুটবলেই বহুদূর নিয়ে যেতে চান তিনি। 

Advertisement

অসিতবাবু বলছিলেন, ‘মেয়ের তখন ১০ বছর বয়স। মাঠে নিয়ে গিয়ে ফুটবল শেখাচ্ছিলাম। ওর মধ্যে মনের জোর ছিল। তাই, খুব সহজেই খেলার কৌশল  রপ্ত করতে পারে। ফুটবলের জন্য আরও কঠিন পরিশ্রম প্রয়োজন। সঙ্গে দরকার আর্থিক সাপোর্টও। তা জোটাতে গিয়েই মাঝেমাঝে হোঁচট খাচ্ছি। ঋণও নিতে হচ্ছে।’ অমৃতার মা’য়ের কথায়, ‘মেয়ে ফুটবলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। আমরা গর্বিত। আমরা সবসময় ওর পাশে রয়েছি।’ বাবার হাত ধরে মাঠে নেমে অমৃতা বশে আনে ফুটবলকে। প্রশিক্ষণ নেন অভিজিৎ দে’ কাছে। তারপরই একদিন দরজা খুলে যায়। সরাসরি অনুর্ধ্ব ১৪ বাংলা দলে অধিনায়কত্বের সুযোগ পায় অমৃতা। সেখান থেকে সুযোগ মেলে ভারতের অনুর্ধ্ব ১৬ দলে। পাশাপাশি অনুর্ধ্ব ১৭ দলেও সিলেক্ট হয়ে যায় অমৃতা। সেই দলের হয়েই ভিন দেশেও ফুটবল পায়ে পাড়ি দিয়েছে সে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ