নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাতায় কলমে শীত কবে আসছে, কোন দিক দিয়ে আসছে, সেসব বিশেষজ্ঞদের কাজ। সাধারণ মানুষ সেসবের অপেক্ষা করেন না। কলকাতার তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ১৭ ডিগ্রির শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গায়ে গরম জামা না রাখলে, কেমন যেন অস্বস্তি। এমত অবস্থায়, খাবারের মেনুতে বদল আসবে না? তা আবার হয় নাকি? বাজারজুড়ে ফুলকপি, ওলকপি, পেঁয়াজকলি, শিম যেন বাঙালিকে ডাকছে। সেই ডাকে সাড়া না দিয়ে বাঙালি পারে না। তাই দাম একটু বেশি হলেও বাঙালির পাতে কিন্তু কপি, পেঁয়াজকলি, বিট-গাজর চলে এসেছে।
ধাপা থেকে গড়িয়া আপাতত ৪টে ফুলকপি বিকোচ্ছে ৫০ টাকায়। কেউ আবার ১৫ টাকায় একটি কপি বিক্রি করছেন। গড়িয়ার এক সবজি বিক্রেতার কথায়, ‘ওলকপি নিয়ে আসছি না। বেশ দাম বেড়েছে।’ সাধারণত মরশুমি সবজির দাম খানিক কমের দিকেই থাকে। কিন্তু এখনও সেভাবে সবজির দাম কমেনি বলেই বক্তব্য সাধারণ মানুষের। দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা চাকুরিজীবী তনয় হালদার বলছিলেন, ‘রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় গড়িয়া মোড়ে অনেকে সবজি নিয়ে বসেন। কিন্তু রাতের দিকেও তাঁরা দাম কমাচ্ছেন না। চারটে ফুলকপি ৫০ টাকাতেই নিচ্ছেন।’ এদিকে ধাপা-মাঠপুকুর এলাকার বাজারও একেবারে মরশুমি সবজিতে ছেয়ে গিয়েছে। এক বিক্রেতা বলছিলেন, ‘আমার এখানে পেঁয়াজকলি ১০০ টাকা কিলো। শিম ৬০ টাকা কিলো। আর ওলকপির দামটা বেশি আছে। এক একটার দাম ১৫-১৬ টাকা হয়ে যাবে।’ কিন্তু দাম যাই হোক! সকালে মাছের ঝোলে দু’টুকরো আলুর সঙ্গে ফুলকপি না হলে ঠিক চলছে না। শিম ঝাল আর ডালের সঙ্গে পেঁয়াজকলি ভাজার চাহিদা এখন থেকেই।
যাদবপুরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কর্মী শান্তিময় চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, ‘মাছের ঝোলের সঙ্গে দু’টুকরো ফুলকপি থাকলে আর কিছু লাগে না। এমনই সবজি ওটা। আপাতত যা দাম আছে, একটু পরে নিশ্চয়ই আরও কমবে। কিন্তু এই শীতকালের ফুলকপির আলাদা স্বাদ। সেটা সারা বছর পাওয়া যায় না।’ পেঁয়াজকলি-আলুর চচ্চড়িও বাঙালির প্রিয়। তাই শীত এসেছে, বাড়িতে ফ্যান বন্ধ হয়েছে, শীতবস্ত্রও আলমারি থেকেও নেমেছে। এমন সময় প্রিয় মরশুমি সবজিও চলে এসেছে বাঙালির পাতে। এবার কমলালেবু হাতে পিকনিকে বেরিয়ে পড়লেই হয়!