Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে শীতের হানা, বন্ধ ফ্যান, গায়ে লাগছে না রোদ, নভেম্বরেই ঠান্ডা হাওয়ার দাপট

বাংলা ক্যালেন্ডারে এখনও কার্তিক মাস শেষ হয়নি। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে সবে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ।

হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে শীতের হানা, বন্ধ ফ্যান, গায়ে লাগছে না রোদ, নভেম্বরেই ঠান্ডা হাওয়ার দাপট
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা ক্যালেন্ডারে এখনও কার্তিক মাস শেষ হয়নি। ইংরেজি ক্যালেন্ডারে সবে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ। কিন্তু তাতে কী! শীতের কাঁপুনি শুরু হয়ে গিয়েছে এখন থেকেই! গত কয়েকদিন কেবল রাতের দিকে কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিল। সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বেরতে গেলে গায়ে চাপাতে হচ্ছিল গরম জামা। কিন্তু দিনের বেলায়? অস্বস্তিকর গরম না লাগলেও একটু হাঁটাহাঁটি করলে কপালে জমছিল বিন্দু বিন্দু ঘাম। বুধবার থেকে সেসব অতীত! সকাল থেকে সারাদিন শীতের আমেজ। বাড়িতে থাকলে ফ্যান চালানোর দরকার পড়ছে না। ভরদুপুরেও রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে খারাপ লাগছে না ততটা। কারণ, মাঝেমধ্যেই শীতল হাওয়া ছুঁয়ে যাচ্ছে শরীর। শীত যে এসে পড়েছে, তার স্পষ্ট আভাস মিলেছে আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্যেও। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বুধবার কলকাতার (আলিপুর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.১ ডিগ্রিতে নেমে আসে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি কম। চলতি বছরে এর আগে এতটা নীচে নামেনি তাপমাত্রা। কলকাতা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা, পার্শ্ববর্তী জেলায় এদিন পারদ আরও নিম্নগামী ছিল। যেমন, দমদমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৪ ডিগ্রি, উলুবেড়িয়ায় ১৫ ডিগ্রি, ক্যানিংয়ে ১৬ ডিগ্রি ও সল্টলেকে ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এদিন। এদিন দুপুর থেকে উত্তুরে হাওয়ার শীতল স্পর্শ  টের পাওয়া যাচ্ছিল। সকাল থেকে যাঁরা কাজে যান, তাঁরা হাল্কা সোয়েটার বা গরম জামা চাপিয়েই বেরিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় বা রাতে ঘরে ফেরার সময় ফের সেসব তাঁদের গায়ে উঠেছে। 

Advertisement

পাশাপাশি, শীত নিয়ে জমে উঠেছে আড্ডাপ্রিয় বাঙালির হরেক জল্পনা-কল্পনা। শিয়ালদহগামী শান্তিপুর লোকালের কামরায় এক যাত্রী বলে উঠলেন, ‘এত ভিড়েও তো ততটা গরম লাগছে না! শীত কি তবে তাড়াতাড়ি এসে পড়ল!’  ভিড়ের মধ্য থেকে ভেসে এল ‘বিশেষজ্ঞের মন্তব্য’! কেউ একজন বলে উঠলেন, ‘এবার পুজো কতটা আগে পড়েছে, দেখেননি? তাহলে ঠান্ডা তো আগেভাগে পড়বেই!’ এই দু’য়ের মধ্যে সম্পর্ক কী, তা অবশ্য ভিড়ে ঠাসা ট্রেনে কেউ জানতে চাননি। ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির একাংশের আবার কৌতূহল, ‘দার্জিলিংয়ে কত হল? বরফ কি পড়বে?’ দক্ষিণ কলকাতার এক খবরের কাগজ বিক্রেতা দিলীপ মিত্র বলছিলেন, ‘আমরা তো অনেক সকালে বেরোই। বুঝতে পারি, ভালোই ঠান্ডা পড়ে গিয়েছে।’ পরিস্থিতি এমন ছিল যে মেট্রোর এসি রেকের ঠান্ডাও অসহ্য ঠেকেছে কারও কারও। গড়িয়া থেকে দমদমগামী এমনই এক মেট্রোর রেকে এক যাত্রীকে বলতে শোনা গেল, ‘এসির ঠান্ডা তো আর নেওয়া যাচ্ছে না’! বিকেলে ভিক্টোরিয়া, ময়দান কিংবা নন্দন চত্বরে ভিড়ভাট্টার মাঝেও বেশিরভাগ মানুষজনকে গায়ে চাদর বা গরম জামা চাপিয়ে রাখতে দেখা গিয়েছে। সন্ধ্যা ও রাতের দিকে ঠান্ডা আরও বেড়েছে। 
কিন্তু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই ঠান্ডা কি সত্যিই কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘আগেও নভেম্বরে এমন শীত পড়তে দেখা গিয়েছে। আবার হয়তো কয়েকদিন বাদে দেখা গেল, গরম লাগছে। এমন হতেই পারে। তবে এটা ঠিক যে, এ বছর নভেম্বর কুলিং সাইটে রয়েছে।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ