নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু, তালিকা প্রকাশের তিনদিন পরেও নদীয়া জেলার বহু বুথে এখনো পর্যন্ত ভোটার সংযোজন বা বিয়োজন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে জেলার বিপুল সংখ্যক ভোটার কার্যত অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা এবং ধোঁয়াশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল, তাঁরা এখনো জানতে পারছেন না তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, না কি বাদ পড়েছে। অথচ ট্রাইবুনালে আপিল করার জন্য নির্ধারিত ১৫ দিনের সময়সীমা দ্রুত কমে আসছে। তথ্য না জেনেই সেই সময়সীমা কমে যাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দুই-ই বাড়ছে জেলাজুড়ে।
বুধবার সকাল পর্যন্ত কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। মোট ৩০৯টি বুথের মধ্যে ৩০৩টি বুথে নাম সংযোজন বা বিয়োজনের কোনো তথ্য দেখা যায়নি। শুধুমাত্র ৬টি বুথে নাম বিয়োজনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী মোট ১৫০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ১৬১ নম্বর বুথে ছ’জনের, ২ নম্বর বুথে দু’জনের, ১ নম্বর বুথে ৯ জনের, ৩ নম্বর বুথে ৪৬ জনের, ৪ নম্বর বুথে ৫৬ জনের এবং ১৬২ নম্বর বুথে ৩১ জনের নাম বাদ গিয়েছে। রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা এলাকায় পরিস্থিতি আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ। মোট ২৮৩টি বুথের মধ্যে একটিতেও নাম বাদ যাওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়নি। এটি আদৌ তথ্য না থাকার কারণে, নাকি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে, তা স্পষ্ট নয়। কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় ১৬টি বুথের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানেই প্রায় সাড়ে চারশো ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। এই সংখ্যাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জেলা সূত্রে জানা যাচ্ছে, নদীয়া জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ভোটার বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে আশঙ্কা, এর মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হল, বিপুল সংখ্যক ভোটার শেষ মুহূর্তে তাঁদের নাম তালিকায় নেই জানতে পারলে ওই সময়সীমার মধ্যে কীভাবে ট্রাইবুনালে আবেদন জানাবেন।
নাকাশিপাড়ার অনিতা দাস বলেন, আমার নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল। কিন্তু, এখন নাম উঠেছে কি না কিছুই বুঝতে পারছি না। একটা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দার কথায়, তথ্য প্রকাশ হলে ইতিবাচক বা নেতিবাচক যাই হোক না কেন, মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ট্রাইবুনালে আবেদন করার সময়সীমা কমে আসছে। অথচ আমরা জানতেই পারছি না আমাদের নাম ভোটার তালিকায় থাকল না কি বাদ গেল। মঙ্গলবার রাতে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে প্রায় সমস্ত ভোটারকেই ‘বিচারাধীন’ দেখানো হচ্ছিল। এই ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যদিও গভীর রাতে কমিশনের তরফে ওই যান্ত্রিক ত্রুটি সংশোধন করা হয়। এই নিয়ে বুধবার একটি ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি কমিশনের সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, কমিশন যে সফটওয়্যার ব্যবহার করছে, সেটা আমাদের করের টাকায়। ছ’মাস ধরে একটা সফটওয়্যার ঠিক করা যায়নি? এই যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য কত মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।