নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তামিল সিনেমার রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার আর সাসপেন্সের মতোই যেন নাটকীয় উত্তেজনাপর্ব চলছে সরকার গঠন পর্বেও। বিজয় কি আদৌ সরকার গঠন করতে পারবেন? নাকি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে? জোট সরকারের সমীকরণ কি নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে? শেষ পর্যন্ত এআইএডিএমকে বিজয়ের জোটে চলে আসবে? নাকি তার দরকার হবে না? এই নিয়ে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তামিল সিনেমার সুপারস্টার বিজয় যত সহজে প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমেই একক বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন, ততটাই জটিল হয়ে যাচ্ছে সরকার গঠন। বিজয়ের সামনে যেন বাস্তব জীবনের ভিলেন হিসাবে অবতীর্ণ হয়েছেন রাজ্যপাল আর ভি আরলেকর। এমনকি অন্য দলও রাজ্যপালের আচরণে উষ্মা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিয়ম হল একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের জন্য ডাকবেন রাজ্যপাল। বিজয় সকরার গঠনের দাবি নিয়ে রাজ্যপালের কাছে গেলেও রাজ্যপাল তাঁকে বলেছেন, আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। তারপর শপথ। রাজনৈতিক দল এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এটা রীতিবিরুদ্ধ। কারণ একক বৃহত্তম দলকে অথবা জোটকে সরকার গঠনের জন্য ডাকা হবে। তারপর তাদের বলা হবে বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে। শপথ নিয়ে সরকার গঠন করেও বিধানসভায় যদি কোনও দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারে তাহলে সেই সকরারের পতন হয়। কেন্দ্র অথবা রাজ্য, একাধিক সরকারের ক্ষেত্রে এই উদাহরণ আছে। তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১১৮ পেতে হবে সরকার গঠনের গরিষ্ঠতা অর্জনে। বিজয়ের দল এককভাবে পেয়েছে ১০৮। অর্থাৎ ১০টি কম। কংগ্রেস ডিএমকের সঙ্গ ত্যাগ করে বিজয়কে সমর্থন দিতে চিঠি দিয়েছে। ভিসিকে নামক দলও সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু আরও ৫টি আসন দরকার। সিপিআই, সিপিএম, আইইউএমএল বিজয়কে সমর্থন করতে তৈরি। কিন্তু যেহেতু তারা ডিএমকের সঙ্গে জোটে ছিল, তাই ডিএমকে যদি সবুজ সংকেত দেয়, তাহলেই তারা বিজয়ের সঙ্গে যাবে বলে জানিয়েছে। যদিও কংগ্রেস বিস্ময়করভাবে এই সৌজন্য দেখায়নি। তারা হঠাৎ এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ডিএমকের জোট ছিন্ন নিয়েছে। যা ডিএমকে ভালো চোখে নেয়নি। ডিএমকে প্রকাশ্য বিশ্বাসঘাতক বলেছে কংগ্রেসকে। এমনকি ইন্ডিয়া জোট শেষ হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি ডিএমকে বলেছে, আমরা বিরোধী আসনে বসব। বিজয়কে সরকার গড়তে সুযোগ দেওয়া উচিত। কমল হাসানও বলেছেন, এটি জনাদেশকে অসম্মান করা। আবার এর মধ্যেই এআইএডিএমকের বিধায়কদের একাংশকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পুদুচেরির রিসর্টে। যাতে তারা দলবদল করে না ফেলেন। এই অংশটি বিজয়কে সমর্থন করতে প্রস্তুত। কিন্তু লিখিতভাবে বিজয়কে সমর্থনের চিঠি হাতে না পেলে রাজ্যপাল বলেছেন, সরকার গঠন করা যাবে না। রাজ্যপালের এই ভূমিকা নিয়েই আপাতত তামিলনাড়ু সরগরম! শেষ পর্যন্ত রূপালি পর্দার মতোই সব বাধা অতিক্রম করে বিজয়ের বিজয় হবে কিনা সেই প্রতীক্ষায় টানটান উত্তেজনা।



