Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘ভালো কলেজ পাবে তো?’ পরীক্ষাকেন্দ্রে সন্তানরা, বাইরে আলোচনা অভিভাবকদের

লেখার বোর্ড ঠিকঠাক হওয়া চাই। জলের বোতলে কোনও স্টিকার থাকলে হবে না। তারপর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার আগে আর এক পরীক্ষা।

‘ভালো কলেজ পাবে তো?’ পরীক্ষাকেন্দ্রে সন্তানরা, বাইরে আলোচনা অভিভাবকদের
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লেখার বোর্ড ঠিকঠাক হওয়া চাই। জলের বোতলে কোনও স্টিকার থাকলে হবে না। তারপর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষার আগে আর এক পরীক্ষা। এতসব কাণ্ড কারখানা পেরিয়ে সন্তানরা প্রবেশ করেছে পরীক্ষাকেন্দ্রে। দু’ঘণ্টা পরীক্ষা চলবে। মা-বাবারা এ সময় একটু ছায়ায়, ফুটপাতের ফাঁকা জায়গায় কাগজ পেতে বসলেন। চিরাচরিত সেই ছবি বৃহস্পতিবারও দেখা গেল কলকাতার রাস্তাগুলিতে। অভিভাবকদের মুখে উৎকণ্ঠা। এখন প্রতিযোগিতার বাজার। শুধু পরীক্ষায় বসলেই যে স্বস্তি তা নয়। সকলেই ভাবছেন, রেজাল্ট ভালো করতেই হবে। না করলে ছেলেটা বা মেয়েটা ভালো কলেজে সুযোগ পাবে না। দু’ঘণ্টার অবসরে এই আলোচনাই চলল শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির বাইরে।

Advertisement

ভালো করে পড়াশোনার জন্য জেলা থেকে মা-বাবারা সন্তানদের নিয়ে আসেন কলকাতায়। যেমন তমলুকের নাজিয়া ইয়াসমিন, চন্দনা আদক, রাধারানি সামন্ত, কাকলি মহাপাত্র। তাঁরা বসেছিলেন যোধপুর পার্কের ফুটপাতে। সন্তানরা পরীক্ষা দিতে গিয়েছেন। মায়েরা বললেন, ‘আমরা সেই তমলুক থেকে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসে এখানকার স্কুলে পড়াই। ওরা সকলে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভালোভাবে যদি সুযোগ পেয়ে যায় তাহলেই ভালো।’ ওঁদের মতোই যোধপুর পার্ক গার্লস স্কুলের পাশের ছাউনিতে অপেক্ষারত অভিভাবকরা। একজন বললেন, ‘আগে উচ্চ মাধ্যমিকে কি রেজাল্ট করে দেখি। তারপর তো ভালো কলেজে চান্স। আজকালকার দিনে ভালো কলেজে সুযোগ না পেলে কী যে হবে কে জানে?’ পাশ থেকে সেই আলোচনায় যোগ দিয়ে একজন বললেন, ‘তাছাড়া চাকরি-বাকরির যা অবস্থা মেয়েকে কলকাতায় রাখব, না বাইরে পাঠাব, সেই চিন্তাও করতে হচ্ছে।’ অপেক্ষারত আর একজন বললেন, ‘চিন্তা তো এখানেই শেষ নয়। পছন্দের কলেজ পেলে শুধু হল না। পছন্দের বিষয়ও পেতে হবে?’ এসব নিয়েই আলোচনা। উদ্বেগ সকলের মধ্যেই। একদল অভিভাবক এখনই এসব নিয়ে চিন্তা করতে চাইছেন না। যাদবপুর থানার সামনে ফুটপাতে কাগজ পেতে বসে মুনমুন সানি, অনিন্দিতা মাঝিরা। ওঁরা স্পষ্ট বললেন, ‘আগে পরীক্ষা ভালো করে দিক। তারপর বাকি আলোচনা করা যাবে। এখন থেকেই সন্তানদের মাথায় কলেজে ভর্তির চাপ দিতে চাইছি না। আগে ভালো করে উচ্চ মাধ্যমিকটা দিক। তারপর হবে বাকি আলোচনা।’
পরীক্ষা শেষ। খুলল পরীক্ষাকেন্দ্রের দরজা। মেয়েকে দেখতে পেয়েই হাত নেড়ে ডাকলেন মা। ‘কেমন হয়েছে পরীক্ষা?’ মেয়ের মুখ দেখে বোঝার চেষ্টা করলেন। সন্তান মুখে যাই বলুক, তার চোখ-মুখ দেখেই অভিভাবকরা বুঝে নিতে চান কেমন দিয়েছে পরীক্ষা। এবার সেই নিয়ে মা-বাবাদের মধ্যে চলবে আলোচনা। কেউ বললেন, ‘মেয়ে যাই বলুক না কেন আমি মুখ দেখেই বুঝে যাই পরীক্ষা কেমন হয়েছে।’ 
এবার বাড়ির পথে। সব আলোচনা শেষ হল ওই একটি জায়গাতে গিয়েই। ‘উচ্চ মাধ্যমিক হয়ে গেলে এবার জীবনের পরীক্ষায় বসবে। ঠিকঠাক পারবে তো?’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ