নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের কোনও অজুহাত আর ভারত মেনে নেবে না। রাশিয়ায় গিয়ে এই সুরেই ইসলামাবাদকে হুঁশিয়ারি দিলেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি। পহেলগাঁও হামলা ও তার পরবর্তী অপারেশন সিন্দুর নিয়ে বার্তা দিতে বিভিন্ন দেশে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে কেন্দ্র। রাশিয়ায় এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন কানিমোঝি। মস্কোয় পৌঁছে ভারতের প্রতিনিধিরা রুশ পার্লামেন্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির ফার্স্ট ডেপুটি চেয়ার আন্দ্রে ডেনিসভের সঙ্গেও দেখা করেন প্রতিনিধিরা। এরপর কার্যত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরেই ডিএমকে সাংসদ জানান, ভারত যদি ফের হামলার শিকার হয় তাহলে আর সন্ত্রাসবাদী ও তাদের মদতদাতাদের আলাদা করে দেখা হবে না। তিনি জানান, জওহরলাল নেহরু থেকে নরেন্দ্র মোদি—সব প্রধানমন্ত্রীই পাকিস্তানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তির জন্য চেষ্টা করেছেন। কানিমোঝি বলেন, ‘আলোচনার জন্য আমরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছি। কিন্তু শান্তি বৈঠক চলার সময়েই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসবাদীরা হামলা চালিয়েছে। আর প্রতি ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগ পাওয়া গিয়েছে। এখন আর আমরা কোনও কিছু শুনব না।’ তাঁর অভিযোগ, যে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছে, নিরাপত্তা পরিষদে তাদেরই বাঁচাতে চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
এদিকে, কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঁচটি দেশে সফরে রওনা দিয়েছে। এই প্রতিনিধিদল আমেরিকা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পানামা ও গায়ানায় যাবে। সফর শুরুর আগে এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিও বার্তায় থারুর বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ আর আমাদের চুপ করিয়ে রাখতে পারবে না।’ তিনি জানান, দেশে কতটা নিষ্ঠুরভাবে হামলা করা হয়েছিল, কতটা ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়তে হয়েছিল, সেই কথাই তাঁরা বিদেশ সফরে গিয়ে তুলে ধরবেন। তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ বলেন, শান্তি ও আশা বাঁচিয়ে রাখতেই এই সফর। একদিন সারা বিশ্ব মনে রাখবে যে, ভারত শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতার পক্ষে এবং সন্ত্রাসবাদ ও ঘৃণার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। আমেরিকায় গিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আল কায়েদার যোগ থাকার প্রসঙ্গও প্রতিনিধিদল তুলে ধরতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ভারতের আরও দুটি প্রতিনিধিদল শনিবার বিদেশ সফরে গিয়েছে। এর মধ্যে একটি দলের নেতৃত্বে রয়েছে এনসিপি (শারদপন্থী) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে ভারত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অপারেশন সিন্দুর নিয়ে কোনও রাজনীতির জায়গা নেই বলেও জানান সুলে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রথমে কাতারে যাবে। সেখান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইথিওপিয়া ও মিশরে যাবেন তাঁরা। এই সফর কোনও রাজনীতির বিষয় নয়, এটা ভারতের বিষয়। পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়ে ভারতের আত্মার উপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। তার প্রতিক্রিয়ায় ভারত পরিমিত প্রত্যাঘাত করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ বৈজয়ন্ত জয় পান্ডার নেতৃত্বে অন্য প্রতিনিধিদলটি এদিন বাহরিনে পৌঁছেছে।