প্রীতেশ বসু, অগ্নিভ ভৌমিক, শ্যামলেন্দু গোস্বামী, চাকদহ, হাবড়া ও বনগাঁ: ২০১১ সালের পালাবদলের ভোটে মমতার স্লোগান ছিল—‘বদলা নয়, বদল চাই’। এই স্লোগানকে সামনে রেখেই ৩৪ বছরের বাম শাসনে যতিচিহ্ন টেনেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ২০২৬’এর মহারণে সরাসরি ‘বদলা’র কথা বললেন বাংলার অগ্নিকন্যা। তবে এই বদলার পথ অহিংস। গণতান্ত্রিক। বাংলার মানুষকে লাগাতার হয়রান করার বিরুদ্ধে। বিজেপির ‘চক্রান্তে’র বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই ডাক তিনি দিলেন মতুয়াগড় বনগাঁ-চাকদহ থেকে হাবড়ার মঞ্চে। তাঁর রণহুংকার, ‘বিজেপিকে শূন্য করে দেব’। আর তার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো পাশে চাইলেন বাংলার আপামর জনসাধারণকে। বললেন, ‘মনে রাখবেন, লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম কাটার বদলা নিতে হবে। বাংলাকে বিজেপি শূন্য করতে হবে। গণতন্ত্রের মাধ্যমে বদলা নেওয়ার দিন এসেছে। প্রতিটা ভোট যেন অধিকার রক্ষার হাতিয়ার হয়। সকাল সকাল ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে রুখে দিন।’
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া—বিজেপি-কমিশনের এই আঁতাতের বিরুদ্ধে এদিনও গর্জে ওঠেন মমতা। বিজেপিকে বিষধর ‘গোখরো-কেউটের’ সঙ্গে তুলনা করনে তিনি। সাধারণ মানুষকে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘এদের বিশ্বাস করলে ছোবল মারবেই’। তিন সভামঞ্চ থেকেই এসআইআরের নামে অযাচিতভাবে হিন্দু, মুসলিম, মতুয়া, নমঃশূদ্র, তফশিলি শ্রমিক-কৃষক সহ সকল সম্প্রদায় ও শ্রেণির মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন মমতা। বিচারাধীন পর্বে সবথেকে বেশি নাম বাদ গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। আবার বনগাঁয় কাটা গিয়েছে ৯০ হাজার হিন্দু ভোটারের নাম। এই প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটান নেত্রী। মিশনারিজ অব চ্যারিটির ৩০০ ভোট বাদ যাওয়া নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন। উপচে পড়া জনসমুদ্রকে সাক্ষী রেখে বাংলার মানুষের জন্য তাঁর বার্তা, ‘সুপ্রিম কোর্টে আমি নিজে দাঁড়িয়েছিলাম বলে আজ ৬০ লক্ষ বিচারাধীনের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাদ যাওয়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে শুনানির জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের আইনি সহায়তার কথা আগেই বলেছি। আজ বলছি, যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা যোগ্য ভোটার হলে শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’ সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের শাসক দল এবং রাজ্য সরকারের তরফে আবেদন করেছেন, ট্রাইবুনালে যাঁদের নামের নিষ্পত্তির পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে, তাঁরা যেন ভোটাধিকার ফেরত পান। সুপ্রিম কোর্টে এই ইস্যুতে ১৩ তারিখ ফের শুনানি আছে। সেই সূত্রে মমতা বলেন, ‘ভোট দেওয়া দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। এরা বদমাইশি করছে। ভোটের পরে নাম তোলার চক্রান্ত করছে। আমরা (আইনিভাবে) লড়াই করব, যাতে ভোটের আগেই নাম (ট্রাইবুনালে যাঁদের নাম ফিরবে) তোলা হয়।’ কোচবিহারে রাসমেলা ময়দানের সভা থেকে ‘বস্তাপচা অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু, অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির। এই কথা ফের স্মরণ করিয়ে মমতার গর্জন, ‘একটা লোককেও বাংলা থেকে তাড়াতে দেব না। একদিকে নাম কাটছে, অন্যদিকে সেন্ট্রাল ফোর্স পাঠাচ্ছে! বাংলা এর জবাব দেবে।’ এদিন সিপিএমকেও ফের একবার বিজেপির দোসর বলে আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বাম জমানার অত্যাচারের কথা মনে করিয়ে বলেন, ‘ওদের ভোট দিলে বিজেপির হাত শক্ত হবে। ওরা ভোট কেটে বিজেপিকে জেতাচ্ছে।’