নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বর্ষার মরশুমে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) মোট বৃষ্টিপাতের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। প্রথম স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত কলকাতায় মোট ১৭১৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই জায়গায় পূর্ব মেদিনীপুরে হয়েছে ১৯১৩ মিমি বৃষ্টি। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড বলছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০২১ সালে কলকাতায় বর্ষাকালে ১৭৭০ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। এখনও সেপ্টেম্বর মাসের একদিন বাকি আছে। তাই ওই রেকর্ড ভাঙার সুযোগ এখনও চলে যায়নি। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা বিদায়ের স্বাভাবিক সময় ১০ অক্টোবরের আশপাশে। কিন্তু বর্ষাকালীন বৃষ্টির হিসাব জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তই হিসাব করে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর।
এবার মরশুমের শুরু থেকেই কলকাতায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। জুলাই ছাড়া বাকি তিন মাসই দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। জুলাই মাসে সেই গড়ের থেকে (৩৭১ মিমি) সামান্য কম, ৩৪১ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। আগস্টে বৃষ্টি হয় ৪২৪ মিমি (গড় ৩৭২ মিমি)। জুন মাসে তো দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে কলকাতায় সব থেকে বেশি ৩৬৪ মিমি (গড় ২৭৭ মিমি) বৃষ্টি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এখনও পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৫৮৮ মিমি (গড় ৩২৫ মিমি)।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে পরপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপগুলির প্রভাব তো আছেই, সেই সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বেশি থাকাই এত বৃষ্টির কারণ। জুন মাসে বর্ষা কিছুটা দেরিতে হলেও কলকাতায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে। তবে আবহাওয়া অধিকর্তা বলছেন, ‘কলকাতায় বৃষ্টির সার্বিক হিসাব একটি জায়গার ভিত্তিতে হয় (আলিপুর)। সেখানে বেশি বৃষ্টি হলেই মোট পরিমাণ বেড়ে যায়। যেখানে জেলাগুলির বৃষ্টির হিসাব অনেকগুলি কেন্দ্রের গড় ধরে করা হয়। যেমন, দমদম ও সল্টলেক কেন্দ্রে যে বৃষ্টির পরিমাণ চিহ্নিত হয়, তা উত্তর ২৪ পরগনার হিসাবের মধ্যে পড়ে।’
কলকাতা লাগোয়া জেলাগুলিতেও বৃষ্টির পরিমাণ যথেষ্ট বেশি এবার। এই বর্ষা মরশুমে উত্তর ২৪ পরগনায় ১৪৯৫ মিমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫৮৪ মিমি, হাওড়ায় ১৩০০ মিমি ও হুগলিতে ১০৭৯ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ২০ শতাংশ বা তার বেশি বৃষ্টি হলে তা আবহাওয়াগতভাবে ‘অতিরিক্ত’ ধরা হয়। কলকাতা ও দুই মেদিনীপুর জেলা এই তালিকায় পড়ছে। কলকাতার কাছাকাছি নদীয়া জেলাতেই একমাত্র বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। গড়ের থেকে ২০ শতাংশ কম বৃষ্টি হলে ‘ঘাটতি’ ধরা হয়। নদীয়াতে এখনও পর্যন্ত ২১ শতাংশ কম (মোট ৭৫২ মিমি) বৃষ্টি হয়েছে। মোট পরিমাণের নিরিখে রাজ্যে সবথেকে কম বৃষ্টি হয়েছে এই জেলাতেই।