নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কর্ণাটক কংগ্রেসে ফের কানাঘুষো। শুরু টানাপোড়েন। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া কি ইস্তফা দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হবেন? উপ মুখ্যমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী হবেন ডি কে শিবকুমার? ২০২৩ সালের পর ফের এই জল্পনা উসকে দিল মঙ্গলবার দিল্লিতে উল্লেখিত দুই নেতার সঙ্গে কংগ্রেস হাইকমান্ডের দীর্ঘ বৈঠক। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী এবং কর্ণাটকের ইনচার্জ রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার সঙ্গে কংগ্রেসের নতুন দপ্তর ইন্দিরা ভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন সিদ্ধারামইয়া-শিবকুমার। সূত্রের খবর, তারপরই দক্ষিণী রাজ্যে ক্ষমতার হাত বদল কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিতে পারেন সিদ্ধারামাইয়া। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন শিবকুমার।
যদিও দিল্লির বৈঠকে আসন্ন রাজ্যসভার নির্বাচন ইস্যুতেই আলোচনা হয়েছে বলেই দলের দাবি। কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন সিদ্ধারামাইয়াই। দলীয় সূত্রে খবর, কর্ণাটক প্রদেশ নেতৃত্বের একাংশ চায়, সিদ্ধারামাইয়াকে রাজ্যসভার সাংসদ করে মুখ্যমন্ত্রী হন শিবকুমার। কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড রাজি নয়। তবে শিবকুমারকে সন্তুষ্ট করতে তাঁর ভাই কে সুরেশকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া হতে পারে বলেই জানা গিয়েছে। বাকি মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে কয়েকটি দপ্তর শিবকুমারপন্থী মন্ত্রীকে দেওয়া হবে।
কর্ণাটকে এবার রাজ্যসভার নির্বাচনে তিনটি আসন পাবে কংগ্রেস। একটি মল্লিকার্জুন খাড়্গে নিশ্চিত। বাকি দুটি নিয়ে চলছে প্রার্থী বাছাইয়ে টানাপোড়েন। আর তারই একটিতে শিবকুমারের ভাইকে দেওয়া হবে বলেই জানা যাচ্ছে। বাকি একটি রাজ্যের বাইরের কোনো নেতা। সেই মতো প্রাক্তন মন্ত্রী সলমন খুরশিদকে টিকিট দেওয়া হতে পারে বলেও খবর। যদিও সিদ্ধারামাইয়া এতে খুব একটা রাজি নন। তিনি চান, কর্ণাটক থেকেই তৃতীয় আসনটি কাউকে দেওয়া হোক। তাই এদিন বৈঠকে টানাপোড়েন চলে।
তারই মধ্যে জল্পনা চলে, ২০২৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভার
নির্বাচন। কংগ্রেস যদি জিততে না পারে, বা জিতলেও যে সিদ্ধারামাইয়াকে আর মুখ্যমন্ত্রী করা হবে না, এটা একপ্রকার নিশ্চিত। তাই কি তিনি আগামী ২০৩২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার সুযোগ নেবেন? যদিও কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদ যে রাজ্যসভার সাংসদ পদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তা কি জানেন না সিদ্ধারামাইয়া। কেন্দ্রে এখন কংগ্রেসের সরকারও নেই। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ছেড়ে নিছক এক সাংসদ হবেন সিদ্ধারামাইয়া? সন্দেহ থাকল।