Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ভারতের উপর চাপবে না বাড়তি শুল্ক? পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরই সুর নরম ট্রাম্পের

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা এখনই চাপছে না।

ভারতের উপর চাপবে না বাড়তি শুল্ক? পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরই সুর নরম ট্রাম্পের
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১৮:০৮
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা এখনই চাপছে না। স্বাধীনতা দিবসের পরদিন ইঙ্গিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সুর নরম করলেন! জানালেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ২-৩ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আপাতত স্বস্তিতে ভারত।

Advertisement

আলাস্কা থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানেই ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ভালো হয়েছে। এরপরই রাশিয়া ও তার বাণিজ্যিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সম্পর্কে সুর নরম করতে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো আরও ২-৩ সপ্তাহ পর এনিয়ে (নিষেধাজ্ঞা ও অতিরিক্ত শুল্ক প্রসঙ্গে) ভাবতে পারি। আমি যদি এখনই অতিরিক্ত শুল্ক চাপাই, তাহলে ওদের কাছে তা বিধ্বংসী হবে। চাপাতে যদি হয় চাপাব। তবে আমাকে হয়তো তা আর করতে হবে না।’
ভারতের উপর প্রথম দফায় ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। এরপর রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ট্রাম্প ‘জরিমানা’ হিসেবে বসান আরও ২৫ শতাংশ ট্যারিফ। ফলে ভারতীয় পণ্যে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হয় মোট ৫০ শতাংশ। প্রথম দফার ২৫ শতাংশ কর ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ চালু হওয়ার কথা আগামী ২৭ আগস্ট। তবে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তা নিয়ে আপাতত ধীরে চলো নীতি নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও এই ইস্যুতে মচকাননি ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারেই তাঁর দাবি, ‘উনি (পুতিন) তেলের এক ক্রেতাকে হারিয়েছেন। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, সেই ক্রেতা ভারত। ওরা (রাশিয়া থেকে) প্রায় ৪০ শতাংশ তেল নিচ্ছিল।’
যদিও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি স্থগিত রাখা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তের কথা ভারত এখনও স্বীকার করেনি। ঠিক যেমন পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার দাবি খারিজ করে আসছে নয়াদিল্লি। ঘটনাচক্রে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া সম্প্রতি একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, রাশিয়ার অশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করলে চলতি অর্থবর্ষে জ্বালানি খাতে ভারতের খরচ বাড়তে পারে ৯০০ কোটি ডলার। তবে সরকারি সূত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত, মস্কো থেকে তেল কেনা বন্ধ হচ্ছে না। বরং চড়া হারে শুল্ক চাপানোয় ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়েই সম্ভবত পিছিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ