নয়াদিল্লি ও ঢাকা: দেশজুড়ে আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। দু’বছর ধরে কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে ভারতে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে বাংলাদেশে পট পরিবর্তন হয়েছে। ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। নিষিদ্ধ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ। মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে মুজিব-কন্যাকে ফাঁসির সাজাও শুনিয়েছে আদালত। এমন পরিস্থিতিতে কি তিনি আর দেশে ফিরতে পারবেন? এই নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। এর মধ্যেও অনমনীয় বাংলাদেশের পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, ‘এই বছরেই দেশে ফিরব’। নিজের দল সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, আওয়ামি লিগ কোনো সংগঠন নয়, একটা শক্তি। বাংলাদেশে একজন সংখ্যালঘুর উপর হামলাও দেশের স্বাধীনতার উপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছেন হাসিনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছেন, ‘আমার বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত আকাঙ্খার বিষয় নয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো বিষয়গুলি জড়িত। আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নই এর লক্ষ্য।
তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার হয়নি। এটা বেআইনি, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। আওয়ামি লিগকে নেতৃত্বহীন করার জন্য বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে। অতীতেও এমন চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। এবারও ব্যর্থ হবে। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।’ আওয়ামি লিগের ভবিষ্যত সম্পর্কে হাসিনা জানান, তাঁর দল নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেবে। জনগণ এখনও দলের পাশেই রয়েছে। বাংলাদেশ-বিরোধীরা ক্ষমতায় আসার জন্যই আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার পথে হেঁটেছে। এদিকে, হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে দুজনকে ‘হত্যা’ ও একজনকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে তিন পুলিশকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া আরও এক পুলিশকর্মীর ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। শেখ হাসিনা। ফাইল চিত্র