পাটনা: শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভের এপিসেন্টার ছিল যন্তরমন্তর। তারপরের সবচেয়ে চর্চিত জায়গাটির নাম পাটনা। বিহারের জেন জি-দের সামাল দিতে গিয়ে পুলিশ-প্রশাসনকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। কখনও পুলিশের কাছে নিজেরাই গিয়ে কাঁদানে গ্যাস, জল কামানের দাবি জানিয়েছে তারা। কখনও আবার পুলিশের গুলিকে পরোয়া না করেই বনধের সমর্থনে সোচ্চার হয়েছে। গোটা দেশ দেখেছে জেন জি ঐক্যের প্রভাব। সাম্প্রতিক রাজনীতিকেও এক আলাদা মাত্রা দিয়েছে এই ছাত্র-যুব আন্দোলন। এবার বিহারের পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভার উপনির্বাচনেও তা এক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে চলেছে। এক্ষেত্রে চাপে পড়তে পারে রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। জনসুরাজ পার্টি, আরজেডি বা অন্যান্য বিরোধী দল নয়। জেন জি বনাম বিজেপি দ্বৈরথের সাক্ষী হতে চলেছে বাঁকিপুর। এমনই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিজেপির শক্তঘাঁটি বাঁকিপুর। এই আসনে একাধিকবার জিতেছেন নীতিন নবীন। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। কাঁধে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব। তাই বাঁকিপুর বিধানসভা আসনটি খালি হয়ে গিয়েছে। আগামী ৩০ জুলাই সেখানে ভোট। এই আসনে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েছেন জনসুরাজ পার্টির প্রশান্ত কিশোর। বিজেপি শুরুতে অভিষেক বান্টিকে প্রার্থী করে। কিন্তু তিনি পিছিয়ে আসায় রাতারাতি নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করা হয়। তাই শুরু থেকেই এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের গন্ধ মিলেছে। আর ঠিক এখানেই নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে নবীন ভোটাররা। পরিসংখ্যান বলছে, এই বিধানসভায় তরুণ ভোটারদের একটি বড়ো অংশ রয়েছে। বাঁকিপুরে একাধিক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোচিং ইনস্টিটিউট ও হস্টেল রয়েছে। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়, এনআইটি পাটনা, বিএন কলেজ, সায়েন্স কলেজ, চাণক্য ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি। তালিকাটা দীর্ঘ। বিধানসভার মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার। আর এর প্রায় এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের বয়সসীমা ১৮-২৯ বছর। এই ভোটাররাই কিন্তু পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকে শুরু করে বেকারত্ব, পরীক্ষা ব্যবস্থা সহ একাধিক ইস্যুতে বারবার সরব হয়েছে। এদের চাপেই পদত্যাগ করতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এবার সেই প্রভাব পড়তে পারে ভোটবাক্সেও। এমনই জানাচ্ছেন অভিজ্ঞ মহল।