নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শ্যামের ঘাটে ফেরি চলাচল কি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে? এমনই আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে খড়দহজুড়ে। সেই সঙ্গে আতঙ্ক ও ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে। কারণ, রিষড়া পুরসভার সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভাটার সময় পাশেই টিটাগড়ে তৈরি হওয়া নতুন (খড়দহ ফেরিঘাট) একটি ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল করবে। কারণ, ওই সময় শ্যামের ঘাটে চড়া পড়ে যায়। আগামী ১০দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। আজ, সোমবার শ্যামের ঘাটের স্থানীয় দোকানদার, অটো-টোটো চালকরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খড়দহ পুরসভায় স্মারকলিপি জমা দেবেন।
কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই শ্যামের ঘাট বৈষ্ণব যুগপুরুষ নিত্যানন্দ ও বীরভদ্রের পদধূলিধন্য। বর্তমানে এই ঘাটের সামনে চড়া পড়ায় প্রতিদিন দু’দফায় কয়েক ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। রবিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট থেকে প্রথম ফেরি চলাচল শুরুর কথা থাকলেও এই সমস্যার কারণে তা শুরু হয় সাড়ে ৭টার পর। আবার বিকেল ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ফেরি বন্ধ থাকে। রিষড়া ও শ্যামের ঘাটের যাত্রীরা ভোগান্তির মুখে পড়েন। এই ফেরিঘাট দিয়ে ২০মিনিট অন্তর যাত্রী পারাপার হয়। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ে শেষ লঞ্চ। প্রত্যেক মাসে এই ফেরিঘাটে টিকিট কেটে প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ২০২৪ সালে শ্যামের ঘাট থেকে প্রায় এক কিমি দূরে টিটাগড় পুরসভা এলাকার লোহাপুল লাগোয়া ফাঁকিঘাট কাঁচালাইনে নতুন একটি ফেরিঘাট তৈরি হয়। নাম দেওয়া হয় খড়দহ ফেরিঘাট। তা এখনও তালাবন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি রিষড়া পুরসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভাটার সময় শ্যামের ঘাটের বদলে ওই নতুন ঘাট দিয়েই পরিষেবা চালু রাখা হবে। তাতে আশঙ্কা বা উদ্বেগের কারণ কী? এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফাঁকা ফাঁকা ওই এলাকা দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল। ইতিমধ্যে নতুন ফেরিঘাটের দরজা ভাঙাও হয়ে গিয়েছে। শ্যামের ঘাটের দোকানদার শঙ্কর শর্মা বলেন, ‘নতুন ফেরিঘাটের নাম শুনে যাত্রীরা তো আতঙ্কেই গুটিয়ে যাচ্ছে। ওখানে মাঝেমধ্যেই বোমা- গুলি চলে। চড়ার সমস্যা এখানে আগেও ছিল। তখন পাশাপাশি তিন-চারটি নৌকো রেখে তার উপর দিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করানো হতো। এখন সেটা কেন বন্ধ, বোঝা যাচ্ছে না।’ তাঁর দাবি, ‘আসলে ঘাট এখান থেকে সরানোর চক্রান্ত হচ্ছে। আমরা পুরসভায় স্মারকলিপি দেব।’ রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র বলেন, ‘মানুষের সমস্যার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোর্ট ট্রাস্ট ড্রেজিং করলে সমস্যা থাকত না। নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে আমরা পুলিসের সঙ্গে কথা বলেছি।’ এ বিষয়ে খড়দহ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সায়ন মজুমদার বলেন, ‘এমন সিদ্ধান্তের কথা আমাদের জানা নেই। আমরা রিষড়া পুরসভার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’