নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্য সরকারের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতে গ্রামের মানুষকে ক্যাম্পমুখী করতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলোর যেখানে এই শিবির বসবে, সেখানে সাধারণ মানুষ যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, সেই দিকটাই খেয়াল রাখবে তরুণ ব্রিগেড। সম্প্রতি এই নিয়েই কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার, ব্লকের যুব নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয় জেলা নেতৃত্বের। সেখানেই এই কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি হয়। পাশাপাশি নদীয়া জেলার সীমান্ত এলাকার মানুষরা যাতে এসআইআর ও এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত না হন, তার জন্য বাড়ি বাড়ি যাবে যুব সংগঠনের সদস্যরা। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে যুব সংগঠনের সদস্যরা মানুষের পাশে দাঁড়াবে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষরা যাতে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারেন, সেই ব্যাপারে তাঁদের সাহায্য করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমরা বোঝাব যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায় থাকতে তাঁদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। প্রসঙ্গত, বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু তার আগে, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে মানুষের দাবি দাওয়া প্রশাসনের কাছে তুলে ধারার জন্য রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি। ক্যাম্পের মাধ্যমে সরাসরি প্রশাসনকেই এলাকার প্রয়োজনীয় কাজগুলো তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষ।
কিন্তু রাজ্য সরকারের এই কর্মসূচি যাতে ভালোভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে, তার জন্য এবার ময়দানে নামছে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তরুণ ব্রিগেড। জেলাজুড়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ব্লকে দু’টি থেকে তিনটি শিবির বসছে। প্রতিটি শিবিরে তিনটি বুথের বাসিন্দারা আসছেন। তৃণমূলের যুব শাখার সদস্যরা আগের দিন থেকেই গ্রামের মানুষদের ক্যাম্পের ব্যাপারে অবগত করবেন। সংশ্লিষ্ট দিনে যাতে বেশি সংখ্যক গ্রামের মানুষ শিবিরে উপস্থিত হন, সেই দিকে নজর দেবেন তাঁরা। পাশাপাশি শিবিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের যাতে কোনওরকম সমস্যা না হয় সেই দিকেও খেয়াল রাখবেন তাঁরা।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচির মাধ্যমেই জনসংযোগ সেরে ফেলতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পাশাপাশি, বঙ্গে নির্বাচন আসতেই এনআরসি আর আর এসআইআরের মাধ্যমে নাগরিকত্বের রাজনীতিতে শান দিচ্ছে বিজেপি। যার তীব্র বিরোধিতা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। বিজেপির সেই রাজনীতির শিকার যাতে সীমান্ত এলাকার মানুষ না হয়, তা নিয়েও তৎপর হয়েছে যুব সংগঠন। নদীয়ার নাজিরপুর, বেতাই, ছিটকা, লক্ষ্মীগাছা, ভীমপুরের মতো সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় এই কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ব্যাপারে অবগত করা এবং বিজেপির ফাঁদে না দিতে বোঝাবেন যুব সংগঠনের সদস্যরা।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, বিগত পাঁচ বছর মানুষের জন্য রাজ্য সরকার কিছুই করেনি। তাই এখন এসব করতে হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষ উপকৃত হচ্ছেন না। তৃণমূল বাংলাদেশিদের নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছে। ছাব্বিশে মানুষ জবাব দেবে।