Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

ভারতকে আঘাতের চেষ্টা হলে প্রত্যাঘাত এটাই হবে: রাজনাথ

ভারতকে আঘাতের চেষ্টা হলে প্রত্যাঘাত এটাই হবে: রাজনাথ
  • ৯ মে, ২০২৫ ১১:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাতে দিশাহারা পাকিস্তান। একের পর এক হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর প্রত্যেকটাই ব্যর্থ। ভারত তার প্রত্যেক অ্যাকশনে বুঝিয়ে দিয়েছে, আঘাত করলে এমনই প্রত্যাঘাত হবে। আর এই ভাষাতেই প্রথমে সর্বদল বৈঠক, পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার তিনি বললেন, ‘আমরা সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের সংযম, ধৈর্যকে কেউ দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে। অপারেশন সিন্দুরের মতো একইরকম দায়িত্বপূর্ণ জবাব দেব। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সেনা যেভাবে সঠিক নিশানায় আঘাত করেছে, তা প্রশংসনীয়। ওদের পরাক্রমই পাকিস্তানকে নাস্তানাবুদ করে দিয়েছে। জয় হিন্দ।’ 

Advertisement

‘অপারেশন সিন্দুর’ ইস্যুতে বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল মোদি সরকার। যদিও সেখানে ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যা নিয়ে সমালোচনাও হয়। যদিও রাজনাথ সিং সভাপতিত্ব করতে গিয়ে পাকিস্তান প্রশ্নে সবর্সম্মত অবস্থানই আদায় করে নেন। বৈঠকে তিনি পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত ইস্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলিকে অবগত করান। বলেন, ‘এরপরও যদি পাকিস্তান আমাদের উপর হামলার চেষ্টা করে, এভাবেই প্রত্যাঘাত হবে। জবাব দিতে আমরা তৈরি। অপারেশন সিন্দুর বন্ধ হয়ে যায়নি।’ মঙ্গলবার মধ্যরাতের অপারেশনে পাকিস্তানের ন’টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলায় ১০০ জনের কাছাকাছি মারা গিয়েছে বলেও বৈঠকে জানান রাজনাথ। বলেন, ‘গিনতি জারি হ্যায়।’ 
রাজনাথের প্রত্যয়ী প্রত্যাঘাতের কথা শুনে রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত, রামগোপাল যাদব, সঞ্জয় সিংয়ের মতো বিজেপি বিরোধী নেতারাও সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। বাহবা দেন সেনাবাহিনীকে। সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের পক্ষে অমিত শাহ, এস জয়শঙ্কর, নির্মলা সীতারামন, জেপি নাড্ডা এবং কিরেন রিজিজু উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তান কীভাবে জঙ্গি কার্যকলাপে প্রশ্রয় দেয়, তা বর্ণনা করেন রাজনাথ। তবে কীভাবে এরপরেও পাকিস্তানকে জবাব দেওয়া হবে, তা খোলসা করেননি। বলেন, ‘লড়াইয়ের স্ট্র্যাটেজি প্রকাশ্যে বলা যায় না।’ 
বৈঠকে রাহুল দাবি করেন, সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন হওয়া উচিত। সরকার-বিরোধী আমরা সবাই এখন এক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশের বেড়াহীন সীমান্তের প্রসঙ্গ তুলে সরকারকে সতর্ক করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ভারতের প্রয়োজনীয় অবস্থান নেওয়া দরকার।  
উদ্ধবপন্থী শিবসেনার সঞ্জয় রাউত অমিত শাহকে বলেন, ‘অপারেশন সিন্দুরের পর ভারতে যেন কোনও পাকিস্তানের স্লিপার সেল জেগে না ওঠে, তা দেখা উচিত। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় জোর দিন। স্রেফ পাকিস্তানে গিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি ওড়ালে হবে না। যারা সেদিন পহেলগাঁওয়ে নিরীহ নাগরিকদের মেরেছে, তাদের ধরতে হবে। দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে এনে সর্বসমক্ষে বিচার করতে হবে। তবেই হবে প্রকৃত বদলা।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ