নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: স্ত্রীর মোবাইল সারাক্ষণ ব্যস্ত। কারণ জিজ্ঞেস করতেই শিশুসন্তান নিয়ে ‘বেপাত্তা’ স্ত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি সদরের মণ্ডলঘাট এলাকায়। এনিয়ে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার দ্বারস্থ হন এক যুবক। গোটা ঘটনাটি জানিয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এদিন দুপুরে থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে ওই যুবক বলেন, কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে যখনই স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করতাম, দেখতাম ফোন ব্যস্ত রয়েছে। অর্থাৎ, কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলছে স্ত্রী। এরপর কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। কেন তার মোবাইল সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে, জানতে চাওয়ায় তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী বেপাত্তা হয়ে যায়।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে ওই যুবক জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই বেলা এগারোটা নাগাদ শিলিগুড়ির আশিঘর এলাকায় বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম করে তাঁর স্ত্রী বাড়ি থেকে বের হন। পরে তিনি জানতে পারেন, স্ত্রী বাপের বাড়িতে যায়নি। এরপর বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রী ও তাঁর তিন বছরের শিশুসন্তানের খোঁজ শুরু করেন তিনি। কোথাও হদিশ না পেয়ে অবশেষে এদিন থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন।
স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজের ঘটনায় এদিন দাদাকে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন ওই যুবক। যুবকের দাদা বলেন, ভাইয়ের স্ত্রী সারাক্ষণ কারও সঙ্গে মোবাইলে কথা বলত। আমরা সবটা দেখলেও কিছু বলতে পারতাম না। সন্তানদের দিকে মা খেয়াল না রাখায় এর আগে ভাইয়ের আড়াই বছরের ছেলে বাড়ির সামনে পুকুরে ডুবে মারা যায়। তাঁর দাবি, কেরলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে গিয়েছিল ভাই। দুর্গাপুজোর পর ওর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু স্ত্রীর মোবাইল সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকায় ভাই কাউকে কিছু না বলে দিন দশেক আগে বাড়ি চলে আসে। এরপরই বিষয়টি ভাই তার স্ত্রীর কাছে জানতে চায়। এরই জেরে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে ভাইয়ের স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে আচমকা উধাও হয়ে যায়।