নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রতিদিন সকালে বিকাশ মজুমদার বাড়ির বাইরে বেরতেন আবর্জনা ফেলতে। ফলে ওটাই ছিল তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার উপযুক্ত সময়। এই তথ্য প্রেমিক পিশেমশাইকে দিয়েছিল বিকাশবাবুর স্ত্রী নিজেই। প্রাথমিক জেরায় এই তথ্য পেয়েছেন বরানগর থানার তদন্তকারী অফিসার। শুধু তাই নয়, স্বামীর সারল্য ও বার বার ক্ষমা করে দেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছিল ওই গৃহবধূ। তাই বাড়িতে স্বামী ও বিবাহযোগ্য পুত্র থাকা সত্ত্বেও পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছিল এই মহিলা। বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৯, রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা বিকাশ মজুমদারকে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ তাঁর স্ত্রী রেখা মজুমদারকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি রেখাদেবীর দূর সম্পর্কের পিশেমশাই তথা প্রেমিক প্রদীপ দে ও দুই সুপারি কিলার সুশান্ত আদক ও মহম্মদ শামিম লস্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। জানা গিয়েছে, রেখাদেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর সময় সে মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছিল। বোঝাতে চেয়েছিল, শ্যুটআউটের ঘটনা কিছুই জানত না। উল্টে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু পিশেমশাই প্রদীপ দে’র সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে পুলিশ একের পর এক প্রশ্ন করলে ভেঙে পড়ে গৃহবধূ। এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। নিয়মিত খাবার খাচ্ছে। তার মধ্যে অনুশোচনার লেশমাত্র দেখতে পাননি তদন্তকারীরা। এই মহিলা কিছু ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের প্রভাবিত করা ও মিথ্যার আশ্রয়ও নিয়েছে। তাই পৃথক জেরার পাশাপাশি প্রদীপের সামনে বসিয়ে মুখোমুখি জেরা করা হচ্ছে।



