Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বামীকে খুন করার উপযুক্ত সময় কখন, প্রেমিক পিশেমশাইকে জানিয়েছিল স্ত্রীই

প্রতিদিন সকালে  বিকাশ মজুমদার বাড়ির বাইরে বেরতেন আবর্জনা ফেলতে। ফলে ওটাই ছিল তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার উপযুক্ত সময়।

স্বামীকে খুন করার উপযুক্ত সময় কখন, প্রেমিক পিশেমশাইকে জানিয়েছিল স্ত্রীই
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: প্রতিদিন সকালে  বিকাশ মজুমদার বাড়ির বাইরে বেরতেন আবর্জনা ফেলতে। ফলে ওটাই ছিল তাঁকে শিক্ষা দেওয়ার উপযুক্ত সময়। এই তথ্য প্রেমিক পিশেমশাইকে দিয়েছিল বিকাশবাবুর স্ত্রী নিজেই। প্রাথমিক জেরায় এই তথ্য পেয়েছেন বরানগর থানার তদন্তকারী অফিসার। শুধু তাই নয়, স্বামীর সারল্য ও বার বার ক্ষমা করে দেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখেছিল ওই গৃহবধূ। তাই বাড়িতে স্বামী ও বিবাহযোগ্য পুত্র থাকা সত্ত্বেও পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছিল এই মহিলা। বরানগরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৯, রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা বিকাশ মজুমদারকে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ তাঁর স্ত্রী রেখা মজুমদারকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি রেখাদেবীর দূর সম্পর্কের পিশেমশাই তথা প্রেমিক প্রদীপ দে ও দুই সুপারি কিলার সুশান্ত আদক ও মহম্মদ শামিম লস্করকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। জানা গিয়েছে, রেখাদেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর সময় সে মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছিল। বোঝাতে চেয়েছিল, শ্যুটআউটের ঘটনা কিছুই জানত না। উল্টে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু পিশেমশাই প্রদীপ দে’র সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে পুলিশ একের পর এক প্রশ্ন করলে ভেঙে পড়ে গৃহবধূ। এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। নিয়মিত খাবার খাচ্ছে। তার মধ্যে অনুশোচনার লেশমাত্র দেখতে পাননি তদন্তকারীরা। এই মহিলা কিছু ক্ষেত্রে তদন্তকারীদের প্রভাবিত করা ও মিথ্যার আশ্রয়ও নিয়েছে। তাই পৃথক জেরার পাশাপাশি প্রদীপের সামনে বসিয়ে মুখোমুখি জেরা করা হচ্ছে। 

Advertisement

তদন্তকারীরা জেনেছেন, গত কয়েক বছরে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছে এই মহিলা। বিকাশবাবু যখনই একথা জেনেছেন, তখনই প্রতিবাদ করেছেন। এ নিয়ে বাড়িতে অশান্তিও হয়েছে। প্রতিবারই রেখা এই ভুল হবে না বলে স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এমনকি, কয়েক মাস আগে এক প্রেমিকের সঙ্গে সে দীঘায় পালিয়ে গিয়েছিল। তা জানার পর বিকাশবাবু জোরের সঙ্গে প্রতিবাদ করলে বাড়িতে খুব ঝামেলা হয়। তাঁর ছেলেও মাকে সতর্ক করেছিলেন। তখনও এই মহিলা বলেছিল, সে আর কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলবে না। কিন্তু বাকিদের সঙ্গে কথা বন্ধ করলেও পিশেমশাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যায় রেখা। তা জানার পর রেগে গিয়ে স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বিকাশবাবু। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই গৃহবধূ। এরপরই স্বামীকে শিক্ষা দিতে বলে প্রদীপকে। রোজ সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ তিনি যে ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলতে যান, সেকথা রেখাই বলেছিল প্রেমিক পিশেমশাইকে। খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে এই মহিলা সরাসরি যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্বামী ও ছেলে কাজে চলে গেলে গৃহবধূ বাড়ি থেকে বেরিয়ে সময় কাটাত প্রেমিকের সঙ্গে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ