নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বুধবার সকালে শিবপুরের জি টি রোড লাগোয়া এক অভিজাত বহুতলে গুলিবিদ্ধ হলেন এক গৃহবধূ। পুলিশের দাবি, পারিবারিক বচসার জেরে স্ত্রীকে গুলি করেছে স্বামী। জখম গৃহবধূর নাম পুনম যাদব (২৯)। স্বামী গোপাল যাদবকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার করেছে শিবপুর থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি বেআইনি। গুলিটি পুনমের ঘাড়ের উপরের অংশ ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি। বর্তমানে পুনম কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিবপুর ট্রামডিপোর উল্টোদিকে ওই বহুতলের ১৫ তলার ফ্ল্যাটে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন গোপাল ও পুনম। আর পাঁচটা দিনের মতো এদিন সকালে স্কুলে যায় ছেলে ও মেয়ে। সকাল ১০টা নাগাদ আচমকা গুলির শব্দে চমকে ওঠেন আবাসনের বাসিন্দারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পুনমকে কোলে তুলে ফ্ল্যাট থেকে নীচে নামছে গোপাল। সেই দৃশ্য ধরা পড়ে আবাসনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুনমকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন শিবপুর থানার পুলিশ ও হাওড়া সিটি পুলিশের শীর্ষকর্তারা। গোপালের কাছ থেকে উদ্ধার হয় বেআইনি সেভেন এমএম পিস্তল। প্রথমে গোপাল দাবি করে, অস্ত্র পরিষ্কার করার সময় আচমকা গুলি ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু থানায় দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর সে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করে। তদন্তকারীদের একাংশের ধারণা, স্ত্রীকে খুন করতেই গুলি চালিয়েছে গোপাল।
জানা গিয়েছে, গোপালের বাড়ি বিহারের সিওয়ান জেলার মুস্তাফাবাদে। বছর চারেক আগে হাওড়ায় এসে ওই অভিজাত আবাসনে ফ্ল্যাট কেনেন তাঁরা। তখন থেকে তাঁরা এই এলাকারই বাসিন্দা। পুলিশের ধারণা, অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসার পাশাপাশি বেটিং চক্রের সঙ্গেও গোপালের যোগ আছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের দাবি, গোপাল মধ্য হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সত্যেন্দ্র যাদবের ভাই। গত অক্টোবর মাসে হাওড়া স্টেশনে ঝাড়খণ্ডের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করে সোনার গয়না লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল সত্যেন্দ্র। বর্তমানে সে জেল হেপাজতে রয়েছে। পুলিশের ধারণা, গোপালকে এই আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েছিল সত্যেন্দ্রই।
আবাসনের এক নিরাপত্তারক্ষীর কথায়, ঘটনার আগের দিন রাতে দম্পতির ফ্ল্যাটে কোনও অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে কয়েকজন আত্মীয় হাজির হয়েছিলেন। তবে এদিন সকালে গুলি চলার সময় ওই দম্পতি ছাড়া আর কেউ ফ্ল্যাটে ছিলেন না। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘বিহারের দুষ্কৃতী চক্রের সঙ্গে যোগ থাকতে পারে গোপালের। অস্ত্র আইন ও খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।’ আজ, বৃহস্পতিবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে তোলার কথা।