সংবাদদাতা, ডোমকল: শনিবার চাষের কাজে কাকভোরে জমিতে চলে গিয়েছিল স্বামী। সরঞ্জাম নিয়ে স্ত্রীর যেতে দেরি হওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে বচসা। তার জেরে স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্ত্রীর মৃতদেহ ঘরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় রেখে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে স্বামী। তবে তার কথা কেউ বিশ্বাস করেনি। কারণ তার স্ত্রীর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিবারের সদস্যদের ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে গোটা বিষয়টি জানার পর সিলামপুর থানার পুলিশ স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে খলিল শেখকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের বাড়ি ইসলামপুরের গোয়াসে। বাড়ি থেকেই প্রৌঢ়া আলিনুর বিবির(৫৭) দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিতে কাজ করে খলিল। তার স্ত্রীও সেই কাজে তাকে সাহায্য করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্ত্রীর উপর অত্যাচার চালাত খলিল। তাঁদের দাবি, এদিন সকালে মাঠে কাজে গিয়েছিল খলিল। অভিযোগ, সরঞ্জাম নিয়ে যেতে দেরি হওয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। এরপরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কোপ মারার পাশাপাশি সেচ পাম্পের হাতল দিয়েও স্ত্রীর মাথায় আঘাত করা হয়। স্ত্রী মারা যাওয়ায় সত্যি ঘটনা ধামাচাপা দিতে চুপচাপ নিথর দেহ বাড়িতে নিয়ে এসে বিছানায় শুইয়ে দেয়। পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে কান্নাকাটি শুরু করে খলিল।
তার কান্নাকাটি শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবারের লোকজন সেখানে আসেন। সেই সময় অলিনুর বিবির মাথার পিছনে, ঘাড়ের কাছে ক্ষতচিহ্ন দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপরই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ইতিমধ্যেই মৃতার পরিবারের তরফে থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরই পুলিশ বৃদ্ধ খলিলকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গ্রামের বাসিন্দা শেফালি বিবি বলেন , বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলিনুর মারা গিয়েছে খবর পেয়ে এসেছিলাম। কিন্তু, আলিনুরের ঘাড়ের পিছনে গভীত ক্ষত ছিল। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। মৃতার বউমা নাজিরা খাতুন বলেন, আমরা ঘুমিয়েছিলাম। আমার শ্বশুর কান্নাকাটি করার পর বিষয়টি জানতে পারি। মৃতার ভাইপো মহম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর দাবি করলেও ওই ঘরে বিদ্যুতের সংযোগই নেই। আমার পিসিকে খুন করা হয়েছে।