নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: একচিলতে ঘরে চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। সেখানেই ৬২ জন খুদে পড়ুয়ার ভিড়। খোদ মন্ত্রী সহ অনুগামীদের দেখে প্রথমে ভয়ে খানিক সিঁটিয়ে যায় পড়ুয়ারা। তাদের মধ্যে কান্না জুড়ে দেয় সপ্তদীপ নামে এক খুদে। কিন্তু পুরমন্ত্রী নিজে যে দুই সন্তানের মা। অবোধ শিশুকে কীভাবে সামলানো যায় তা তো তিনি বিলক্ষণ জানেন। সমস্যা বুঝে অগ্নিমিত্রা তাঁর সঙ্গে আসা অনুগামী ও অন্য অভিভাবকদের ঘর থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নিজের কাছে ডেকে নেন সপ্তদীপকে। স্বস্নেহে দু’হাতে ওই শিশুর চোখের জল মুছিয়ে দেন আদর করে। সেইসঙ্গে সপ্তদীপের হাতে ধরিয়ে দেন চকোলেট। ততক্ষণে ঘর ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। কান্নাও থামিয়ে দিয়েছে সপ্তদীপ। এরপরেই মন্ত্রীর আবদার, একটা কবিতা শোনাবি? টুইংকেল টুইংকেল লিটিল স্টার...। আধো আধো গলায় বলতে শুরু করে সপ্তদীপ। শনিবার হীরাপুর থানার রামবাঁধ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। জেলাশাসক সহ প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা মন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এক কক্ষের রামবাঁধ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ৬২ জন পড়ুয়া । এদিন কবিতা বললেই মন্ত্রীর হাত থেকে চকোলেট মিলেছে। তাই বেশিরভাগ পড়ুয়ারাই এগিয়ে এসে বলছে, ‘মছলি জল কি রানি হে’। যা শুনে মন্ত্রী শিক্ষিকাকে বলেন, একটিই কবিতা শেখান? জেলাশাসক পোন্নমবলম এসের উপস্থিতিতে এই প্রশ্নে বিব্রত শিক্ষিকা। পড়ুয়ারদের নিয়ে মন্ত্রীই হয়ে গেলেন শিক্ষিকা। দু’হাত তুলে গাইতে থাকলেন, ‘জনি জনি ইয়েস পাপা...’। মন্ত্রীর সুরে সুর মেললো খুদেরাও। আবেগ দিয়ে শিশুদের মন জয় করলেও মন্ত্রী এরপর প্রশাসকের ভূমিকায়। অগ্নিমিত্রা বলেন, এই ঘরে হাওয়া বাতাস ঠিকমতো আসছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। শৌচালয় নেই। একই ঘরের মধ্যে হচ্ছে রান্নাবান্না। এভাবে কেন্দ্র চলতে পারে না। জেলা শাসককে বিকল্প জমি দেখার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি আপাতত দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ফ্যান, আলো, দেওয়াল রং করে পড়ুয়াদের যথাসম্ভব সুবিধার নির্দেশ দেন। পরে অগ্নিমিত্রা বলেন, বিগত সরকারগুলি পরিকাঠামো উন্নয়নের নজর দেয়নি। এক সরকার চিরকুট দিয়ে চাকরি দিয়েছে অন্য সরকার শিক্ষক নিয়োগে দুনীতি করেছে। ২০৪৭ সালে এরাই হবে যুবসমাজ। এদের শিক্ষার বিকাশ না হলে দেশ উন্নত হতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছেন।



