সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: পর্যটনে নতুন ভাবনা, জেলার ব্র্যান্ডকে ঘিরে উৎসবের পরিকল্পনা রাজ্যের। জেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকেই এবার পর্যটনের ব্র্যান্ড বানাতে চাইছে রাজ্য। কোথাও চা, কোথাও পলাশ, আবার কোথাও ভিনটেজ গাড়ি-স্থানীয় আকর্ষণকে ঘিরেই জেলায় জেলায় আলাদা উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সান্দাকফুতে ভিনটেজ কার র্যালির সঙ্গে চা উৎসব এবং পুরুলিয়ায় পলাশ উৎসব করার ভাবনা রয়েছে। বাংলাকে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তুলে ধরতে আগামী ডিসেম্বরে লন্ডনের পর্যটন প্রদর্শনীতে অংশ নেবে রাজ্য।
শনিবার মেটেলির চালসায় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে আলোচনা সভায় এই পরিকল্পনার কথা জানান পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, রাজ্যে পর্যটন পরিকাঠামো তৈরিতে বেসরকারি বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ১২ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এতে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে। তবে পর্যটনের নামে পরিবেশ নষ্ট বরদাস্ত করা হবে না। জঙ্গল ও পাহাড় লাগোয়া ইকো-সেনসিটিভ জোনে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ও পর্যটন চলবে না। পরিবেশবান্ধব পর্যটনই লক্ষ্য।
নিয়ম মানা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মন্ত্রী। সিটং-এ রিসর্টে ক্যাম্প ফায়ারের সময় মহিলা অগ্নিদগ্ধের ঘটনার পর দেখা যায় ওই রিসর্টের লাইসেন্স সহ নানা অনিয়ম ছিল। তাই সব রিসর্ট, হোমস্টে ও কটেজকে পর্যটন দপ্তরের ওয়েবসাইটে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, ট্রেড লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। অনিয়মে কড়া ব্যবস্থা হবে।
পর্যটক সুরক্ষায় জেলা প্রশাসনকেও নির্দেশ দেন তিনি। জেলাশাসক অদিতী চৌধুরীকে একটি পর্যটনকেন্দ্রকে মডেল করে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে এবং পুলিশ সুপার সুজাতা বিনাপাণীকে ট্যুরিস্ট হেল্পলাইন চালু করতে বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বন-বন্যপ্রাণ, হেরিটেজ ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য থাকলেও জলপাইগুড়িতে এখনও পাঁচতারা হোটেল নেই। পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা করেই পরিকাঠামো গড়া হবে। সভায় রিসর্ট মালিক, গাইড, গাড়িচালক, আধিকারিক ও চার বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী সামসিংয়ে একটি পর্যটনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।