Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গৃহশিক্ষকের সঙ্গে উধাও স্ত্রী, কৃষ্ণনগর পুলিসের দ্বারস্থ বাঁকুড়ার গোপাল

প্রেম করে বিয়ে। সেটাও প্রায় হয়ে গিয়েছে এক যুগ। দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্ট-সুখের সংসার। সেই বউ সব ছেড়ে পালিয়েছেন গৃহশিক্ষকের সঙ্গে!

গৃহশিক্ষকের সঙ্গে উধাও স্ত্রী, কৃষ্ণনগর পুলিসের দ্বারস্থ বাঁকুড়ার গোপাল
  • ২৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: প্রেম করে বিয়ে। সেটাও প্রায় হয়ে গিয়েছে এক যুগ। দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্ট-সুখের সংসার। সেই বউ সব ছেড়ে পালিয়েছেন গৃহশিক্ষকের সঙ্গে! প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবারও কৃষ্ণনগরে পুলিস সুপারের অফিসে অনেক মানুষের যাতায়াত। নানা সমস্যা নিয়ে এসেছেন সকলেই। তাঁদের মধ্যে একজনের পরণে কালো জামা, কালো হাফ প্যান্ট। পিঠে ব্যাগ। উস্কোখুস্কো চুল। উদ্বিগ্ন মুখ। হাতে ধরা একটা আবেদনপত্র। সেটা নিয়ে অফিসের আধিকারিকদের টেবিলে টেবিলে ঘুরছিলেন। আধিকারিকরা তাঁকে বোঝানোর মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তিনি বুঝলেও বাগ মানছে মন। ব্যাকুল চোখে চাহনি সেটাই জানান দেয়। তাঁর নাম গোপালচন্দ্র দাস। কিন্তু কেন তিনি এসপি অফিসে? পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালের বাড়ি সোনামুখী থানার ডিহিপাড়া এলাকায়। এক বছর হল তাঁর স্ত্রী দুই সন্তানকে উধাও। তিনি নাকি পালিয়ে গিয়েছেন গৃহশিক্ষকের সঙ্গে। এখনও তাঁর হদিশ নেই। স্ত্রীকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন জেলায় ছুটেছেন। এবার এসেছেন কৃষ্ণনগরে। যদি কৃষ্ণনগর পুলিস কিছু একটা সুরাহা করে দিতে পারে, সেই আশায়। আসলে, নদীয়ার নবদ্বীপে গোপালের শ্বশুরবাড়ি। স্ত্রীকে ফিরে পেতে সেখানেও গিয়েছিলেন। ফিরতে হয়েছে হতাশ হয়ে। উল্টে, গোপালকে দ্বিতীয় বিয়ে করার উপদেশ দিয়েছেন তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি।  গোপালের আর্থিক অবস্থা তেমনভালো নয়। আগে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। ১২ বছর আগে নবদ্বীপের যুবতী নয়ন বিশ্বাসের সঙ্গে আলাপ হয়। সেই আলাপ প্রেমে পরিণত হয়। দু’জনে বিয়েও করে ফেলেন। যদিও তাঁদের মধ্যে রেজিস্ট্রি হয়নি। তাঁদের দুই সন্তান হয়। মেয়ের বয়স ১০ বছর। ছেলের আট। স্ত্রীকে নিয়ে গুজরাতেও ছিলেন। সেখানে দু’জনে কাজ করতেন। ফিরে আসার কিছুদিন পর দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে আসেন নয়ন। সেখানে তাঁদের সন্তানকে পড়াতেন স্থানীয় গৃহশিক্ষক রাজীব বসু। নয়নদেবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে তৈরি হয়। গোপালের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে ওই গৃহশিক্ষক জোর করেই অন্য রাজ্যে  নিয়ে চলে গিয়েছেন। কাজ থেকে ফিরে শ্বশুরবাড়ি এসে গোপাল গোটা বিষয়টি জানতে পারেন। মাথায় বাজ পড়ে তাঁর। দীর্ঘ আট মাস খোঁজাখুঁজি করেন তিনি। কিন্তু শেষপর্যন্ত গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে নবদ্বীপ থানায় লিখিত অভিযোগে করেন। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি’র কাছেও স্ত্রীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে ফিরিয়ে দেওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি নম্বর থেকে ফোনে দু-একবার কথা হয়েছিল স্ত্রীর সঙ্গে। গোপালের দাবি, স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো নেই। তাদের উপর নিত্য নির্যাতন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ওই গৃহশিক্ষকের বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও মারধর করা হয়েছে।  গোপাল এদিন আক্ষেপের সঙ্গে বলছিলেন, ‘আমাদের রেজিস্ট্রি করে বিয়ে  হয়নি। কিন্তু আমার সন্তানের সমস্ত পরিচয় পত্রে বাবা হিসেবে আমার নাম রয়েছে। একবছর ধরে বউকে খুঁজছি। পুলিসকেও বিষয়টি জানিয়েছি। আদালতে দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছি। আমার দুই সন্তান কেমন রয়েছে, তার খোঁজ পাচ্ছি না। খুব চিন্তায় পড়েছি।। শ্বশুর-শাশুড়ি দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলছেন।’ 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ