Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশান্তির পর স্বামীর রহস্যমৃত্যু, আটক স্ত্রী

মঙ্গলবার রাতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল হাবড়ার নন্দনকানন এলাকায়। স্ত্রী ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে স্বামীকে মেরে ফেলেছে বলে দাবি করেছে পরিবার ও প্রতিবেশীরা।

অশান্তির পর স্বামীর রহস্যমৃত্যু, আটক স্ত্রী
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: মঙ্গলবার রাতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল হাবড়ার নন্দনকানন এলাকায়। স্ত্রী ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে স্বামীকে মেরে ফেলেছে বলে দাবি করেছে পরিবার ও প্রতিবেশীরা। এনিয়ে চলে দফায় দফায় বিক্ষোভ। হাবড়া থানার বিশাল পুলিস বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম দীপঙ্কর মণ্ডল (৪৪)। অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে জেরা করছে পুলিস।

Advertisement

হাবড়ার পৃথিবা পঞ্চায়েতের নন্দনকানন এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর মণ্ডলের তিন ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়েই সংসার। দীপঙ্কর একটি বেসরকারি সংস্থায় ইলেক্ট্রিশিয়ানের কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি হতো। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার কলকাতা থেকে কাজ সেরে রাত ৮টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন তিনি। তারপরেই বাড়িতে চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান স্থানীয়রা। দীপঙ্করের সঙ্গে অশান্তি শুরু হয় স্ত্রী শম্পা মণ্ডলের। অভিযোগ, অশান্তি চরমে উঠলে দু’জনে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় স্ত্রীর ছোড়া কিছু জিনিসে আঘাত পেয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন দীপঙ্কর। তাঁর মাথায় এবং ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবার ও পড়শিরা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে যান হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর চাউর হতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাতে যোগ দেন প্রতিবেশীরাও। মৃত্যুর জন্য স্ত্রী শম্পাকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বাড়ির সামনে চলে বিক্ষোভ। মৃতের মেয়ে স্নেহা বলেন, ‘টিউশনি থেকে বাড়িতে ফিরে দেখি বাবা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাড়িতে প্রায়ই অশান্তি হতো।’ মৃতের ভাই মিলন মণ্ডল বলেন, ‘ওঁদের মধ্যে অশান্তি হতো। মঙ্গলবার রাতে অশান্তির জেরে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। বউদির আঘাতেই দাদার মৃত্যু হয়েছে।’ মৃতের স্ত্রী শম্পা অবশ্য বলেন, ‘সুগার ফল করায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। মারধর বা অশান্তির অভিযোগ মিথ্যা।’ হাবড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর পদক্ষেপ করা হবে। -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ