বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল অসমের এক মহিলাকে। আটক করা হয়েছে তাঁদের ন’বছরের মেয়ে ও এক নাবালক সহ আরও দু’জনকে। ডিব্রুগড়ের লাহোনগাঁও এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২৫ জুলাই নিজের বাড়িতেই খুন হন উত্তম গগৈ নামে এক ব্যবসায়ী। তবে প্রথম থেকেই খুনকে হৃদরোগে মৃত্যু বলে চালাতে চেয়েছিল উত্তমের স্ত্রী ববি সোনেওয়াল গগৈ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। তদন্তে নেমে খুনের প্রমাণ মেলে। এর পরেই ববিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
আত্মীয়-পরিজন এবং পুলিসকে ববি জানিয়েছিল, রাতে বাড়িতে ডাকাত পড়েছিল। ভয়ে রক্তচাপ বেড়ে যায় উত্তমের। এরপরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। ডাকাত দল বাড়িতে থাকা সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। যদিও পুলিস পরে সেগুলি বাড়ি থেকেই উদ্ধার করে। মৃতের ভাই জানান, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল যে উত্তমের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি তাঁর বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি, তাঁর কানে কাটা দাগ। পাশে একটি ছাতা রাখা। উত্তমের শরীরের আঘাত দেখে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে কিছু একটা হয়েছে। আজ আমরা জানতে পেরেছি, তাঁর স্ত্রীকে উত্তমের হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে মেয়ে এবং আরও দু’জনকে।’ জানা গিয়েছে, আটক যুবকদের সঙ্গে উত্তমের স্ত্রী এবং মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তবে এই অবৈধ সম্পর্কের জেরেই উত্তমকে খুন হতে হল কি না, তা স্পষ্ট করেনি পুলিস।
ডিব্রুগড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিস (এসএসপি) রাকেশ রেড্ডি জানান, ‘উত্তমের স্ত্রী ববি সোনোয়াল গগৈকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে যুক্ত সন্দেহে উত্তমের মেয়ে ও দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে, উত্তমের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায়। উত্তম গগৈ ও ববি সোনেওয়াল গগৈ।