Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বামীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ

স্বামী জড়িয়েছে পরকীয়ায়। স্ত্রী তা জানার পর প্রতিবাদ করলে প্রায়ই তাঁকে মারধর করত স্বামী

স্বামীর পরকীয়ার কথা জেনে যাওয়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বামী জড়িয়েছে পরকীয়ায়। স্ত্রী তা জানার পর প্রতিবাদ করলে প্রায়ই তাঁকে মারধর করত স্বামী। অবশেষে বছর চল্লিশের ওই গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ তুলল মৃতার পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে দত্তপুকুর থানার বামনগাছি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম মল্লিকা মহান্ত (৪১)। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। মল্লিকার পরিবার স্বামী পঙ্কজ দাসের বিরুদ্ধে সোমবার দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। যদিও অভিযুক্তকে এখনও পুলিশ ধরতে পারেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দত্তপুকুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বামনগাছির বাসিন্দা পঙ্কজ দাসের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মল্লিকার। প্রায় দুই যুগ ধরে তাঁদের সংসার। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে। সে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। মহিলার বাপের বাড়ির অভিযোগ, সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগেও অশান্তি হয়েছিল। মল্লিকাকে মারধর করত পঙ্কজ। অশান্তি ও মারধরের কথা আমাদের জানিয়েছিলও মল্লিকা। সম্প্রতি তিনি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে পুরীতে বেড়াতে যান। কিন্তু পঙ্কজ যায়নি। অভিযোগ, পঙ্কজ অন্য জায়গায় গিয়েছিল ঘুরতে। তার মোবাইল ফোন সুইচড অফ ছিল। 

Advertisement


পরিবারের দাবি, পড়শি এক গৃহবধূকে নিয়ে সেও ঘুরতে গিয়েছিল অন্য জায়গায়। সেই কথা জানার পর তুমুল অশান্তি হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। মল্লিকাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। শেষমেশ স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে স্বামী। যদিও মৃতার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, মল্লিকা আত্মহত্যা করেছে। মৃতার দাদা আশিস মহান্ত বলেন, আগেও অশান্তি বা মারধর ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু বোন কখনও আত্মহত্যার কথা ভাবেননি। স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় তাঁকে মারধরের পর পঙ্কজ মল্লিকাকে খুন করেছে। আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, দোষীর কঠোর শাস্তিরও দাবি করেছি। মৃতার বউদি বিজলি মহান্ত বলেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাদের বলা হয়, মল্লিকা গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু তাঁর গলায় কোনও ফাঁসের দাগ দেখা যায়নি। তাঁকে খুনই করা হয়েছে। অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়াই কাল হলো। 


আমাদের অনুমান, এর পিছনে পরিবারের অন্যান্যও জড়িত। এদিকে, দত্তপুকুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযুক্ত পলাতক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ