নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সিঙ্গুরে ট্রেনি নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ডানকুনির একটি হোটেলে হানা দিল পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর তিনদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ওই ছাত্রী সিঙ্গুরের নার্সিংহোমে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। তবে সেখানে কাজে যোগ দেওয়ার আগের রাতে ডানকুনির ওই হোটেলে প্রেমিককে নিয়ে রাত কাটিয়েছিলেন তিনি। সেই তথ্য মেলার পরেই বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন পুলিস আধিকারিকরা। মূলত, প্রেমিকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর সম্পর্ক বা সেদিন কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত করে পুলিস।
প্রসঙ্গত, দীপালি জানা নামের ওই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই তাঁর প্রেমিক রাধাগোবিন্দ ঘটককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। জানা গিয়েছে, দীপালি তাঁর প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে, রাধাগোবিন্দ এ নিয়ে টালবাহানা করছিলেন। ওই ট্রেনি নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে প্রেমিকের যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। শনিবার কল্যাণীর এইমস হাসপাতালে দীপালির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। একটি সূত্র মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিকভাবে রিপোর্টে হোমিসাইড বা খুনের কোনও সূত্র মেলেনি। যদিও এবিষয়ে গ্রামীণ পুলিসের কোনও কর্তাই মুখ খুলতে চাননি। এমনকী, ডানকুনির হোটেলে অভিযান নিয়েও তাঁরা কোনও সরকারি বিবৃতি দেননি। হুগলি গ্রামীণ পুলিসের এক শীর্ষকর্তা বলেন, সব দৃষ্টিকোণ থেকেই ওই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতার পরিবার যেমন চেয়েছিলেন, সেভাবেই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর সঙ্গে যাই ঘটে থাকুক, তা প্রকাশ্যে আনা হবে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম থেকে সিঙ্গুরের বোড়াইয়ে একটি নার্সিংহোমে কাজে যোগ দিয়েছিলেন দীপালি জানা। কাজে যোগ দেওয়ার তিনদিনের মাথায় নার্সিংহোমের চারতলার একটি ঘরে বছর চব্বিশের ওই তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ মেলে। তারপরেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। পরিবারের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালে দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। পাশাপাশি, পুলিস নার্সিংহোমের মালিক ও মৃতার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে।