পরামর্শে আয়ুর্বেদিক চিকিত্সক ডাঃ সুমিত সুর।
পরামর্শে আয়ুর্বেদিক চিকিত্সক ডাঃ সুমিত সুর।
আয়ুর্বেদশাস্ত্রে আমলকী একটি বহু চর্চিত ফল। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এই ফল আমলা, ধাত্রী, আমলকী সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। তবে, আয়ুর্বেদে আমলকী শুধু ফল নয় বরং নিত্য সেবনীয় আহার। চরক সংহিতায় কয়েকটি জিনিসকে রোজকার আহার্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে সৈন্ধব লবণ, মুগডাল। তেমনই রয়েছে আমলকী। এই ফলের মধ্যে পঞ্চরস বর্তমান। প্রকৃতি আমাদের ছয়টি রস দিয়েছে। মধুর, অম্ল, লবণ, কটূ, তিক্ত এবং কষায়। আমলকীর মধ্যে লবণ বাদে সবকটি রসই বর্তমান। তাই যখনই কাঁচা বা সেদ্ধ আমলকী খাওয়া হয়, তখন তা লবণ দিয়ে খাওয়া উচিত। এবং তা সৈন্ধব লবণ হওয়া উচিত।
কীভাবে খাবেন?
আমলকী এমন একটি রসায়ন, যার মধ্যে সব উপকারী উপাদান রয়েছে। কিন্তু ফলটি খাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সভেদে বিশেষ বিশেষ মাত্রা নির্দিষ্ট রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে আমলকীর চাটনি বা মোরব্বা বানিয়ে খাওয়ানো যায়। এছাড়া পেস্ট বানিয়ে বা সেদ্ধ করে শিশুদের খাওয়ানো যেতে পারে। পূর্ণবয়স্ক যে কেউ আমলকী কাঁচা বা সেদ্ধ করে খেতে পারেন। তবে তা অবশ্যই সৈন্ধব লবণ দিয়ে খাওয়া উচিত। বয়স্করা আমলকী পাউডার বা সিরাপ খান।
কতটা খাবেন?
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সারাদিনে একটি গোটা আমলকী কাঁচা বা সেদ্ধ করে খেতে পারেন। সকালে জলখাবারের পর, দুপুরে খাবারের সঙ্গে বা খেয়ে উঠে যে কোনও সাধারণ ফলের মতোই আমলকী খেতে পারেন। ১৬-১৭ বছর বয়স হওয়ার পর থেকেই রোজ গোটা আমলকী খাওয়া যেতে পারে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তাদের বয়স, ওজন ও হজম ক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে আমলকী কতটা খাওয়ানো যেতে পারে, তার জন্য একজন আয়ুর্বেদিক চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স্কদের আমলকী পাউডার বা সিরাপ খাওয়ার ক্ষেত্রেও চিকিত্সকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে। কারণ, অতিরিক্ত কোনও কিছুই শরীরের পক্ষে ভালো নয়।
অন্য ব্যবহার
শুধু খাওয়া নয়, অন্যভাবেও আমরা আমলকী ব্যবহার করতে পারি। আমলকীর বীজ চূর্ণ চুলের জন্য ভীষণ উপকারী। আমলকী থেকে বিভিন্ন তেল তৈরি হয়। সেই তেলও চুলের জন্য উপকারী। তবে সে সব ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই আয়ুর্বেদ চিকিত্সকের পরমার্শ নিতে হবে।
কারা খাবেন না
সন্তানসম্ভবাদের আমলকী এড়িয়ে চলা উচিত। একেবারে শিশুদের আমলকী না দেওয়াই ভালো। হজমে সমস্যা হতে পারে। যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদেরও আমলকী না খাওয়াই ভালো। অম্লরসযুক্ত খাবার থেকে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।