নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ২৩ সপ্তাহে মুর্শিদাবাদে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫০ নাগরিক। মশাবাহিত রোগের উপদ্রব ঠেকাতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চালু হয়েছে স্বচ্ছতা অভিযান। মাঝে মধ্যেই বৃষ্টিতে আবর্জনা স্তূপে জল জমে মশার উপদ্রব বাড়ছে। আগেভাগে মাঠে নেমেছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। বর্ষা নামতেই প্রতি সপ্তাহে পাঁচ-ছ’ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। জেলার মহকুমা হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে ডেঙ্গু রোগীরা চিকিৎসা করাতে আসছেন। মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও জ্বর নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন অনেকে। শিশু থেকে প্রবীণ সকলেই মরশুম পরিবর্তনে রোগে ভুগছেন।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। তবে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রতি বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার খানেক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুওহয়। বাড়ির আশেপাশে যাতে জঞ্জাল না জমে এখন থেকেই সে ব্যাপারেসচেততন থাকতে বলছে স্বাস্থ্যদপ্তর। হাসপাতালগুলিতে আবর্জনা ও মশার উপদ্রবে নাজেহাল হয় মানুষ। এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
মুর্শিদাবাদ জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিক বলেন, চলতি বছরের ২৩ সপ্তাহে ১৫০ জন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। আমরা এখন থেকেই সতর্ক। ডেঙ্গু পরীক্ষার‘কিট’ পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। জেলার সমস্ত ছোট বড় হাসপাতালে সপ্তাহব্যাপী স্বচ্ছ্বতা অভিযান হচ্ছে। এর ফলে মশাবাহিত রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। প্রতিবছর বর্ষা এলেইডেঙ্গুর আক্রমণ বাড়ে। গোটা রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা মুর্শিদাবাদেই বেশি হয়।এবার এখন থেকেই পুরসভাগুলিকে সতর্ক করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর। খুব তাড়াতাড়ি জলাশয়গুলিতে ছাড়া হবে গাপ্পি মাছ। বেশকিছু জায়গায় ছড়ানো হচ্ছে ব্লিচিং পাউডার।ডেঙ্গু রুখতে প্রতিটি ব্লককেও আগেভাগে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা না এলে এই মশাবাহিত রোগ কিছুতেই ঠেকানো সম্ভব নয় বলেই দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের।
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই প্রতিবছর হাজার খানেক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। চিকিৎসকরা ডেঙ্গু নিয়ে মানুষকে সাবধান থাকতে বলছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে এই ভাইরাস ছড়ায়।
সাধারণত মশার কামড়ের ৩ থেকে ১৪দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গুর সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হল জ্বর। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমিবমি ভাব, পেটে ব্যথা, ফুসকুড়ি, শরীরে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশ্রাম নেওয়া উচিত এবং প্রচুর জল পান করা উচিত। জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যথা উপশমের জন্য ‘প্যারাসিটামল’ খেতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দুই থেকে সাতদিন স্থায়ী হতে পারে। রোগীরা ক্লান্তি, অস্থিরতা এবং বিরক্তিও অনুভব করতে পারে। চিকিৎসকরা আরও বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুরুতে ডেঙ্গুর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অনেকের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে, ডেঙ্গুর লক্ষণগুলি মশার কামড়ের চার থেকে দশদিন পরে দেখা দিতে শুরু করে। যে কারণে রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। এতে শরীরে প্লেটলেট কমতে শুরু করে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।