নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কিছুদিন আগেই বেড়েছে ১০০টি নতুন বেড। এবার আরও ৫০টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার (সিসিইউ) বেড বাড়তে চলেছে পিজি হাসপাতালে। পিজির অন্যতম অ্যানেক্স হাসপাতাল হল ভবানীপুরের পুলিশ হাসপাতাল। ৩৫০ শয্যার সেই হাসপাতালেই থাকবে ৫০ বেডের সিসিইউ। পিজি সূত্রের খবর, সেখানে পরিকাঠামোর কাজ শেষ। আধুনিক যন্ত্রপাতি চলে এলেই এই শয্যাগুলি চালু হয়ে যাবে। এর ফলে পিজিতে সিসিইউ বেডের সংখ্যা বেড়ে হবে ১৫০টি। সেক্ষেত্রে রাজ্যের সরকারি ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেডের অধিকারী হবে পিজি। বর্তমানে পিজি ছাড়াও আর জি কর, এম আর বাঙ্গুর, কলকাতা মেডিকেল কলেজে বড়ো আকারের সিসিইউ রয়েছে।
পিজিতে অবশ্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবা চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। মেইন ব্লকের প্রধান সিসিইউতে ৩০টি বেড আছে। এই ব্লকেই এনাস্থেশিয়া বিভাগের অধীনে আছে আরও ৮-৯টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড। কার্ডিওলজি, নিউরোলজি, ট্রমা, গ্যাস্ট্রো সহ আরও বেশ কিছু বিভাগের বাছাই বেড নিয়ে মোট সিসিইউ বেডের সংখ্যা প্রায় ১০০। এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, এখন পিজিতে আরও ৫০টি বেড বাড়ালেও তা চাহিদার তুলনায় কিছুই নয়। তাও যতটা সম্ভব চেষ্টা করা যাক।
পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশের বয়স ষাটের উপর। তাঁরা সংখ্যায় কমবেশি ১৫ কোটি। ২০৫০ সালে তা বেড়ে হবে ২৫ কোটি! তখন প্রতি পাঁচজনে একজন হবেন ষাঠোর্ধ্ব!
রোগ নির্ণয় নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে। চিকিৎসাও আরও আধুনিক হয়েছে। ফলে গড় আয়ু বেড়েছে। ফলে প্রয়োজন পড়ছে ক্রিটিকাল কেয়ার বেডের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ট্রমা বা পথ দুর্ঘটনা বাদ দিলে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া থেকে স্ট্রোক, জিনঘটিত বিভিন্ন অসুখ, অপারেশন পরবর্তী প্রাণঘাতী জটিলতা— সব ধরনের রোগের চিকিৎসা হয়।
পিজির এক ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ বলেন, একদিকে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, অন্যদিকে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স— আমাদের শাখার চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই শাখার চিকিৎসা যেমন আগের থেকে আরও গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রাজ্যের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটগুলিতে প্রচুর প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়বে।
২০০১ সালে প্রথম ক্রিটিক্যাল কেয়ারে এফএনবি পাঠক্রম চালু হয়। ২০১২ সালে চালু হয় এই শাখার প্রথম ডিএম কোর্স। আর ২০২০ সালে এফএনবি পাঠ্যক্রম বদলে গিয়ে হয় ডিআরএনবি। তিন ধরনের স্বীকৃত পাঠ্যক্রমে পড়াশোনা করা চিকিৎসকের এখন অভাব নেই। প্রশ্ন হল, সরকার কীভাবে পরিকাঠামো এবং লোকবল বাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের সিসিইউ পরিষেবাকে বিশ্বমানের করে তুলতে পারে, সেটাই দেখার।