Bartaman Logo
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

হাত ও পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি কেন?

ফেসিয়াল থেকে স্ক্রাবার, ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার… মুখের যত্নে প্রতিদিন নানা সামগ্রী ব্যবহার হয়

হাত ও পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি কেন?
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেন? ব্যাখ্যা করলেন বিপি পোদ্দার হাসপাতালের জেনারেল মেডিসিন কনসালটেন্ট ডাঃ রাহুল ঘোষ ও ডার্মাটোলজিস্ট ডাঃ তনুশ্রী দাস।

Advertisement

ফেসিয়াল থেকে স্ক্রাবার, ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার… মুখের যত্নে প্রতিদিন নানা সামগ্রী ব্যবহার হয়। অথচ হাত-পায়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ সামান্য।  
কিন্তু সারাদিনের প্রায় সব কাজ করে হাত ও পা। তবুও যত্নের সময় তাদের একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এর জেরে নানা সমস্যার মুখেও পড়তে হয়। তাই হাত পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। 
• বয়স ভেদে হাত ও পায়ের যত্ন 
১) শিশুদের ক্ষেত্রে- হাত ও পা সাবান বা ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে ভালো ভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। নখ ছোটো রাখবেন। শিশুদের বিভিন্ন ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। তাই হাত, পা ধোয়ার পর শুকনো করে মুছে দিন। বাইরে বেরলে পরিষ্কার মোজা ও জুতো ব্যবহার করুন। বাচ্চাদের তোয়ালে অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেবেন না। 
২) কিশোর বয়স থেকেই- পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই বয়সে অনেকেই নেলপলিশ ও নেলপলিশ রিমুভার ব্যবহার শুরু করে। এগুলির অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে নখের ক্ষতি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিসও হতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ নেলপলিশ না লাগিয়ে রাখাই উচিত। নেলপলিশ খুঁটে তোলা বিপজ্জনক। পাশাপাশি অতিরিক্ত  ম্যানিকিওর, পেডিকিওর এড়িয়ে চলুন। নেলপলিশ বা রিমুভার যাতে নখের চারপাশের ত্বকে বেশি না লাগে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। 
৩) প্রাপ্তবয়স্করা নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। রাসায়নিক, ডিটারজেন্ট ও অতিরিক্ত জলের সংস্পর্শ থেকে হাতকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। এ ধরনের কাজের সময় প্রয়োজনে গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। হাত-পা ধোয়ার পর ভালো ভাবে মুছে নেবেন। যাঁদের পায়ে বেশি ঘাম হয়, তাঁদের পা দীর্ঘক্ষণ ভেজা অবস্থায় রাখা উচিত নয়। এতে পায়ের ক্ষতি যেমন হয় পাশাপাশি ভীষণ দুর্গন্ধও বেরয়। নিয়মিত নখ কাটুন। খালি পায়ে হাঁটবেন না। মোজা পরার অভ্যাস করুন। 
• হাত, পায়ের অযত্নে বিপদ কী? 
হাত-পায়ে দীর্ঘদিন ধরে খসখসে ভাব বা চুলকানি থাকলে সেটিকে কেবল ড্রাই স্কিন বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় সোরিয়াসিসের মতো রোগের লক্ষণও হতে পারে। আবার এগজিমা হলে সাধারণত চুলকানি, লালচে ভাব বেশি থাকে। এই লক্ষণগুলি দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ড্রাই স্কিন হলে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। 
• সাবান, ডিটারজেন্ট, স্যানিটাইজার, পারফিউম, নেল প্রোডাক্ট, ব্যবহারের জেরেও হাতে-পায়ে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে। ত্বকে লালচে দাগ, চুলকানি, জ্বালা বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহারের পর বারবার একই সমস্যা হলে সেটি এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন। 
লিখেছেন শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ