Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মধ্যপ্রদেশ দুর্নীতি নিয়ে সবাই চুপ কেন?

অনিতা প্রসাদের ওএমআর শিট হাতে পেয়েই কপাল কুঁচকে গিয়েছিল টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকদের। সময়টা ২০১৩ সাল। এ কেমন উত্তরপত্র?

মধ্যপ্রদেশ দুর্নীতি নিয়ে সবাই চুপ কেন?
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শান্তনু দত্তগুপ্ত: অনিতা প্রসাদের ওএমআর শিট হাতে পেয়েই কপাল কুঁচকে গিয়েছিল টাস্ক ফোর্সের আধিকারিকদের। সময়টা ২০১৩ সাল। এ কেমন উত্তরপত্র? স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বহু জায়গায় ফ্লুইড ব্যবহার করে চাপা দেওয়া হয়েছে ভুল উত্তর। আর তার উপর পেন্সিল দিয়ে লেখা হয়েছে ঠিকটা। ‘মেরামত’ করার পরই যে ওএমআর শিট কম্পিউটার স্ক্যানে ঢুকেছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কারণ, অনিতা প্রসাদ ডাক্তারি পড়ুয়া। এই প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করেই সুযোগ পেয়েছেন। এবং বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তদন্তকারী অফিসাররা জানেন, এমন অনিতা প্রসাদ বহু আছেন। ছিলেন। থাকবেন। ১৯৯০ সাল থেকে যে নিয়োগ দুর্নীতি ডানা মেলতে শুরু করেছিল, তা শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। আর আকারে? মহাসাগরের মতো। ব্যাপ্তি ধারণার বাইরে, তলও নেই। এরই নাম ব্যাপম কেলেঙ্কারি। ব্যাপম কথার অর্থ, ব্যবসায়িক পরীক্ষা মণ্ডল। ইংরেজিতে মধ্যপ্রদেশ প্রফেশনাল এগজামিনেশন বোর্ড। প্রতি বছর প্রায় ৩২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এর মাধ্যমে চাকরির জন্য আবেদন করেন। প্রি মেডিক্যাল টেস্ট, ড্রাগ ইনসপেক্টর, বনকর্মী...। ২০১৩ সালে তদন্তের গভীরে পৌঁছে দেখা গিয়েছিল, ব্যাপম পরিচালিত ১৩ রকম পরীক্ষায় জালিয়াতি হয়েছে। জালিয়াতি বলাটা ভুল হল। কেলেঙ্কারি। এক একজন ধরা পড়েছে, আর তাদের জেরা করে নাম বেরিয়েছে আরও বহু জড়িতের। একেবারে গুণোত্তর প্রগতিতে। কেউ স্রেফ মধ্যস্থতাকারী, কেউ ভুয়ো-মেধাবী ‘পরীক্ষার্থী’ ধরে দেওয়ার লোক, কেউ আবার দুর্নীতির নৌকায় চড়ে ‘অভীষ্ট’ লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া। এই অনিতা প্রসাদের পরিচয় কী? তাঁর বাবার নাম ছিল প্রেমচাঁদ প্রসাদ। মধ্যপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পার্সোনাল সেক্রেটারি। 

Advertisement

১৯৯০ সালে যখন ব্যাপম দুর্নীতি সদ্যোজাত, মধ্যপ্রদেশে সরকার ছিল বিজেপির। নজর করার মতো বিষয় হল, ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল— ব্যাপম কেলেঙ্কারি ব্যাপক রূপ ধারণ করেছিল। তখনও ওই রাজ্যের শাসক দলের নাম বিজেপি। আর ২০০৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর নাম কী? শিবরাজ সিং চৌহান। এই মুহূর্তে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চেয়ার আলো করে রয়েছেন। কিন্তু তাঁর রাজ্যে শাসন চলছে সেই বিজেপির। একইভাবে প্রবহমান দুর্নীতির ধারা। আজও। তার সাম্প্রতিক প্রমাণ? বেতন কেলেঙ্কারি। ব্যাপমের স্মৃতি উস্কে মাথাচাড়া দেওয়া আর এক অনিয়ম। ৫০ হাজার সরকারি কর্মী, প্রত্যেকেই ভুয়ো! সেও কি সম্ভব? যত সংখ্যক সরকারি কর্মী মধ্যপ্রদেশে কাজ করেন, তার ৯ শতাংশ! প্রত্যেকের এমপ্লয়ি আইডি রয়েছে। তার মধ্যে ৪০ হাজার পার্মানেন্ট, আর ১০ হাজার কন্ট্রাকচুয়াল। প্রত্যেকের বেতনই ট্রেজারি থেকে তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৩০ কোটি টাকা। তাঁরা সবাই ভুয়ো। গোলমাল কিছু একটা আছে... সেটা বোঝা মাত্রই মধ্যপ্রদেশের অর্থদপ্তর এই ৫০ হাজার কর্মীর বেতন ছাড়া হয়নি। সেটাও প্রায় ছ’মাস। কিন্তু এতদিনেও কোনও আলোড়ন পড়েনি। অর্থাৎ কোনও কর্মী দাবি করেননি যে, তিনি বেতন পাচ্ছেন না। তাহলে একটা বিষয় নিশ্চিত, এই বিপুল সংখ্যক কর্মচারীই ‘ভূতুড়ে’! দিন তিনেক আগে দেশ ও রাজ্যের ছোটবড় সব সংবাদ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ওই একদিন। তারপর কী হল? মধ্যপ্রদেশের ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের ব্যাখ্যা তলব করেছিল ট্রেজারি। তাঁরা কী জবাব দিলেন? এত বড় দুর্নীতি, অথচ পরদিন থেকে মধ্যপ্রদেশ তথা জাতীয় মিডিয়ায় এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই কেন? বিরোধীরাই বা কেন এ ব্যাপারে মুখ খুলছে না? এই কোনও প্রশ্নের উত্তর নেই। স্রেফ চাপা পড়ে যাচ্ছে বা দেওয়া হচ্ছে। কেন? এই রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ নয় বলে? নাকি শাসকের রং গেরুয়া বলে? 
সোমবার রাতে আচমকাই একটা ব্যাখ্যা দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। তাদের দাবি, কোনও ভূতুড়ে কর্মী নেই! কীভাবে? ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যাখ্যা, মোট ৪৪ হাজার ৯১৮ জন কর্মী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁদের মধ্যে ২১ হাজার ৪৬১ জন মারা গিয়েছেন। ৪ হাজার ৬৫৪ জন অন্যত্র ডেপুটেশনে রয়েছেন। ১০ হাজার ৮৮৫ জন হয় অবসর নিয়েছেন, না হয় ইস্তফা দিয়েছেন। ৪৮৩ জনকে বিনা বেতনে সাসপেন্ড করে রাখা হয়েছে। বাকিদের বিবিধ নানা জায়গায় দেখানো হয়েছে। সোজা কথায়, তাঁরা ন্যায়সঙ্গতভাবেই বেতন পাচ্ছেন না। এখানেও প্রশ্ন অনেক। ২১ হাজার কর্মী মারা গেলেন, আর সেই তথ্য ট্রেজারির খাতায় ছ’মাসেও উঠল না? সেটা তো পরবর্তী বেতনের আগেই নথিবদ্ধ হওয়ার কথা ছিল। হয়নি কেন? একই যুক্তি খাটে অবসর, ভলান্টিয়ারি রিটায়ারমেন্ট এবং ইস্তফার ক্ষেত্রেও। ডেপুটেশনে কোনও কর্মী গেলে, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ডেটা আপডেট করতে হয়। রাজ্য সরকারের সরাসরি পে-রোলের বাইরে গেলে তো বটেই। আর মৃতদের তথ্য? ছ’মাস দেরি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।  
এই প্রশ্নগুলো কিন্তু থেকে যাবে। মধ্যপ্রদেশ সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোলে তড়িঘড়ি দেওয়া ব্যাখ্যা সত্ত্বেও। ঠিক যেভাবে থেকে গিয়েছে ব্যাপমের প্রশ্ন। ভুয়ো পরীক্ষার্থী, ফাঁকা ওএমআর, পরীক্ষার হলে সিটের অদল-বদল, নকল পরীক্ষার্থীর ‘নির্ভুল’ খাতা আসল পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বদলে দেওয়া, মধ্যস্থতাকারীর রমরমা দালালি, প্রত্যেক চাকরির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা। এই প্রত্যেকটা অনুষঙ্গের সঙ্গে বাংলার এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির মিল পেতেই পারেন। কিন্তু এই স্কুলে বাংলার একটা নিয়োগ দুর্নীতি একেবারে শিশু। বহু আগে এই পথ দেখিয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশ। এর সবটাই গেরুয়া নিয়োগ দুর্নীতির বুলেট পয়েন্ট। পশ্চিমবঙ্গে তাও পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে চাকরি হয় কারও কারও। তাঁরা আদালতের রায়ে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত হন। কিন্তু লোকগুলোকে দেখা যায়। তাদের নামধাম জানা যায়। মধ্যপ্রদেশে গোটা সিস্টেমটাই চলে যায় ‘ভূতের দখলে’। ৫০ হাজার কর্মীর বেতন হয়, কিন্তু তাদের কারও অস্তিত্ব নেই! এটাই সত্যি। দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসলে দেখা যাবে, পশ্চিমবঙ্গে চাকরি নিয়ে যে দুর্নীতির চূড়া মাথা তুলেছে, তা টিলা ছাড়া কিছুই নয়। মধ্যপ্রদেশের দুর্নীতি মাপতে বসলে জলের নীচে এভারেস্ট ডুবে যাবে। এই রাজ্য দুর্নীতির স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ইতিহাস সে কথা বলছে। বর্তমানও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বলেন, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’... সেই স্লোগান বোধহয় মধ্যপ্রদেশের জন্য খাটে না। তখন এই রাজ্যটি দেশের মানচিত্রের বাইরে কোথাও একটা চলে যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী— কারও কোনও প্রতিবাদ শোনা যায় না কেন? কোথায় থাকে বিক্ষোভ? হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা? নাকি মধ্যপ্রদেশে দুর্নীতি হলে তাতে জনতার স্বার্থ বিঘ্নিত হয় না? নিন্দুকে বলছে, আসলে ব্যাপমের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে সবাইকে। ঠিক সেই কারণেই নীরবতা। ওই কেলেঙ্কারির জমানায় যাদের যাদের নাম সামনে এসেছিল এবং যারা যারা মুখ খুলেছিল... প্রত্যেকের ঠিকানা হয়েছিল লাশকাটা ঘর। ব্যাপম দুর্নীতিতে কীভাবে ডাক্তারির সিট ‘বিক্রি’ হয়, জেনে ফেলার পরই প্রাণ গিয়েছিল নম্রতা দামোরের। প্রথমে তাঁর পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছিল, শ্বাসরোধ করে খুন। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তে আর কোনও ‘গলদ’ নজরে আসেনি। বরং কারণ হিসেবে লেখা হয়েছিল, ‘প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা’। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে এও লেখা হয়? না হয় না। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে হয়েছিল। কারণ, কেলেঙ্কারির নাম ছিল ব্যাপম। ঝাঁসির আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি কলেজ থেকে পাশ করা নরেন্দ্র রাজপুতের নাম জড়িয়েছিল ব্যাপম নিয়োগে প্রশ্ন সাপ্লাইয়ে। আচমকা মৃত্যু। আর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট? পাওয়াই যায়নি। সাগর মেডিক্যাল কলেজের অনুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডেকেছিল পুলিস। উল্টোদিক থেকে আসা ট্রাক ধাক্কা মারল তার গাড়িকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু। অক্ষয় সিং একটি নিউজ চ্যানেলের জন্য তদন্তমূলক স্টোরি করতেন। ব্যাপম ছিল তাঁর লক্ষ্য। পৌঁছে গিয়েছিলেন নম্রতা দামোরের বাড়িতে। বেঁচে ফেরেননি তিনিও। এই মৃত্যুমিছিল সামান্য কয়েকটা উদাহরণ মাত্র। সরকারিভাবে জানানো হয়, এই দুর্নীতির সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে জড়িত প্রায় ৪০ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা শতাধিক। তালিকায় মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপালের ছেলেও ছিল। একটাই বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ভীষণ নগ্নভাবে— ধরা পড়লে বাঁচার অধিকার নেই। হাজার দুয়েক গ্রেপ্তার হয়েছিল। বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত শর্মা, কয়েকজন শীর্ষ অফিসারকেও পাকড়াও করা হয়েছিল। কিন্তু তার বাইরে কত হাই প্রোফাইল নেতা-মন্ত্রী-আধিকারিক ছিল এই কেলেঙ্কারির নেপথ্যে? জানা যায়নি। একের পর এক মৃত্যু ব্যাপম ঘিরে যেভাবে জাল পেতেছিল, তাতে বড় বড় থ্রিলার ফেল পড়ে যায়। আতঙ্ক কি সেখানেই?
মোদি সরকারের ১১ বছর পূর্ণ হয়েছে সোমবার। চারদিকে প্রচার, স্লোগান, আর প্রতিশ্রুতির বন্যা। ফোকাস একদিকেই— কী পেয়েছি। কিন্তু কি হারিয়েছি? সেই প্রশ্ন কোথায় উঠছে? কে তুলছে? এই প্রশ্ন দিল্লির পাওয়ার সেন্টারে নিয়ে ফেলার দায়িত্ব শুধুমাত্র বিরোধীদের। আম জনতার আওয়াজ দরবার পর্যন্ত পৌঁছয় না। পৌঁছতে দেওয়া হয় না। তাই মানুষ ভোট দেয়। তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন না পাওয়ার যন্ত্রণাটা তুলে ধরতে পারেন। একটা বিহিত করতে পারেন। বিরোধীদের ভূমিকা কখনও হয় গঠনমূলক। কখনও শুধুই নেগেটিভ। বাংলায় বিরোধীরা যেমন ভাঙনের দিকেই বেশি মন দিতে ভালোবাসেন। গঙ্গার ভাঙন তাঁদের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। নিয়োগের সম্ভাবনা দেখা দিলেই মামলা, নিয়োগ হলে পুরো প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা, মন্দির হলে তার খুঁত ধরা এবং মন্দির রাজনীতিকে নিজেদের বাপের সম্পত্তি বলে প্রতিষ্ঠা করা... এই সবই বাংলার বিরোধী দলগুলির রোজনামচা। বিরোধী দলের ধ্বজাধারী মামলাকারীরা কেন একবারও আদালতে বলে না যে, ‘হুজুর, সবার চাকরি যেন না যায়। শ’খানেক অযোগ্যের জন্য যেন হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী পথে না বসে!’ নাঃ, সেটা তাঁরা বলবেন না। তাহলে যে তাঁদের জীবনই বৃথা। রাজনীতি বৃথা। আর মধ্যপ্রদেশের মতো দুর্নীতির ইস্যুতে বিরোধীরা মুখে কুলুপ এবং ঘরের দরজায় খিল দিয়ে থাকবেন। কেন? সেখানে প্রতিরোধ করলে প্রত্যাঘাত আসতে পারে বলে? ১৯৯০ সালে শুরু হওয়া ব্যাপম দুর্নীতি থেকে হাল আমলের বেতন কেলেঙ্কারি, মধ্যপ্রদেশকে টেক্কা দেওয়া ভূভারতের কোনও রাজ্যের পক্ষেই সম্ভব নয়। ফারাক শুধু একটাই—পশ্চিমবঙ্গ হলে তার প্রচার বিশ্বজুড়ে হয়। সমাধানসূত্র খোঁজা নয়, শুধুই নিন্দা। ওতেই শান্তি। এই মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বাঙালিরাই। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের দুর্নীতি চাপা পড়ে যায় ডাবল ইঞ্জিনের প্রতাপে। ও হ্যাঁ, ডাবল ইঞ্জিন থেকে একটা কথা মনে পড়ে গেল। ব্যাপমের সেই পরীক্ষা পদ্ধতি... যেখানে আসলের সঙ্গে ভুয়ো পরীক্ষার্থীও হলে থাকবে। পরীক্ষা দেবে। কিন্তু শেষে তার খাতাটাই ‘আসল’ হিসেবে জমা পড়বে। সে হবে ইঞ্জিন। আসল ‘অপারগ’ কিন্তু পয়সাওয়ালা ‘বগি’কে টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পোশাকি নাম ছিল ‘ইঞ্জিন-বগি’ সিস্টেম। মানেটা পরিষ্কার। মোদি জমানার অনেক আগেই কিন্তু ইঞ্জিনের কার্যকারিতা প্রমাণ হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে। ইঞ্জিন-বগির পরেই তো এসেছে ডাবল ইঞ্জিন! কাকতালীয় নাকি?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ