Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ম্যানগ্রোভ কেটে নতুন জায়গায় মৎস্যবন্দর তৈরি কেন? প্রতিবাদে মৎস্যজীবী সংগঠন

প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নামখানার হরিপুরে তৈরি করা হচ্ছে অত্যাধুনিক মৎস্যবন্দর। এখন জোরকদমে চলছে সেই কাজ

ম্যানগ্রোভ কেটে নতুন জায়গায় মৎস্যবন্দর তৈরি কেন? প্রতিবাদে মৎস্যজীবী সংগঠন
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নামখানার হরিপুরে তৈরি করা হচ্ছে অত্যাধুনিক মৎস্যবন্দর। এখন জোরকদমে চলছে সেই কাজ। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে এর উদ্বোধন করা হবে। কিন্তু এই বন্দরটি তৈরি করার ধরন নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন ও এলাকাবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, অতীতে নির্দিষ্ট করা জমিতে বন্দরটি তৈরি করা হচ্ছে না। বর্তমান যেখানে এটি তৈরি করা হচ্ছে, সেখানে এটি গড়ে উঠলে এলাকার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে। জানা গিয়েছে, হরিপুর কালীমাতা মেরিন ফিসারমেন্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে একটি মৎস্যবন্দর তৈরি করার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেখানে হরিপুরের একটি সরকারি জমিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এমনকী ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে বন্দরটি তৈরি করার জন্য বাজেটে ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর কেটে গিয়েছে। বন্দরটি তৈরি করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালে হরিপুরেই অন্য একটি জায়গায় মৎস্যবন্দর তৈরি করার জন্য ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেটিই এখন সুন্দরিকা নদীর তীরে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা মণিমোহন মণ্ডল বলেন, এই নতুন জায়গাটিতে নদীর চর থেকে বেআইনিভাবে প্রচুর ম্যানগ্রোভ কেটে মৎস্যবন্দরটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে আগামী দিনে নদীর ওই এলাকার পাড়ে থাকা গ্রামগুলি সংকটে পড়বে। এছাড়াও আগামী দিনে এই বন্দরের জন্য নদীর পাড় ধরে রাস্তা তৈরি করা হবে। তখন গ্রামগুলির আরও বিপদ হবে। তাই বন্দরটি তৈরি হওয়ার আগে এখনই জায়গা পরিবর্তন করা উচিত।

Advertisement

স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের সভাপতি মনোজিৎ মাইতি বলেন, অতীতের নির্ধারিত জমিতে বন্দরটি তৈরি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে তৎকালীন সময়ে বরাদ্দ করা ১৫৭ কোটি টাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সদুত্তর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ