Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ব্যাটিং ব্যর্থতা ডোবাল ভারতকে

যে ছেলেটা মায়ের হাত ধরে প্রথমবার টেস্ট খেলা দেখতে এসেছিল ইডেনে, সে কী জানত দুপুর গড়াতেই চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরতে হবে।

ব্যাটিং ব্যর্থতা ডোবাল ভারতকে
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: যে ছেলেটা মায়ের হাত ধরে প্রথমবার টেস্ট খেলা দেখতে এসেছিল ইডেনে, সে কী জানত দুপুর গড়াতেই চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ি ফিরতে হবে। কোচের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত আর ঋষভদের হারাকিরি ব্যাটিংয়ে রক্তাক্ত হল কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়। 

Advertisement

ভারতীয় দল নাকি ঘরের মাঠে বাঘ। সেই তকমাও ঘুচেছে গম্ভীরের কোচিংয়ে। গতবছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘূর্ণি পিচ বানিয়ে জুটেছিল হোয়াইট-ওয়াশের লজ্জা। একই ঘটনা ইডেনেও। ভুলভুলাইয়া পিচ এবং সিংহ হৃদয়ের বাভুমাই হয়ে উঠলেন টিম ইন্ডিয়ার পতনের কারণ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম টেস্ট ৩০ রানে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত। পয়েন্ট তালিকায় নেমে গেল চতুর্থ স্থানে। গুয়াহাটিতে এবার ফের হোয়াইট-ওয়াশের লজ্জা এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। 
টেস্ট ক্রিকেটকে বলা হয় রুক্ষ জমি। যেখানে ফসল ফলাতে দরকার অনেক নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও নিখুঁত টেকনিক। সেই মাপের ক্রিকেটারের বড়ই অভাব এই ভারতীয় দলে। তার উপর শুভমান গিলের ঘাড়ে চোট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং দুই ইনিংসে ব্যাট করতে না পারা ফারাক গড়ে দিল ম্যাচে। তবুও ১২৪ রান তাড়া করতে নেমে ৯৩ রানে গুটিয়ে যাওয়া লজ্জার। 
কাকে ছেড়ে কার কথা বলি। এক ক্ষুরে সবারই মাথা কামানো। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের শুরুটা ছিল এরকম, ০-১, ১-২...। জানসেনের পেসের বলি ততক্ষণে জয়সওয়াল ও রাহুল। চাপের মুখে ফিরলেন জুরেলও। তা দেখে হাপিত্যেশ শোনা গেল ক্লাব হাউসের লোয়ার টিয়ারে। অজ্ঞাতকুলশীল এক খর্বকায় কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটারের নেতৃত্বে গতবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১টা টেস্টে নেতৃত্বে দিয়ে দশটাতে জয়, একটা ড্র। তবুও বাভুমাকে এই ম্যাচেও শুনতে হয়েছিল ‘বামন’ কটাক্ষ। সেটাই যেন জ্বালিয়ে দিয়েছিল তাঁর মনের ছাই চাপা আগুন। ৭ উইকেটে ৯৩ থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৫৩ রানে শেষ করবে, সেটা কী কেউ ভেবেছিলেন! ১৩৬ বলে বাভুমার ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংসই সেই কারণে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। তবে সকালে জাদেজা ও অক্ষরকে দিয়ে আক্রমণ শানানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। পরে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন বুমরাহ, এক ওভারে জোড়া উইকেট নেওয়া সিরাজও। আসলে ইডেনের পিচ বিতর্কে স্পিনারদের (২২ উইকেট) সঙ্গে সমানে পাল্লা দিলেন পেসাররাও। নিলেন ১৬টি উইকেট। 
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে সুন্দর ও জুরেল কিছুটা লড়াই মেলে ধরেন। যোগ করেন ৩২। তারপর তুলে মারতে গিয়ে উইকেট উপহার দিলেন জুরেল। অফ স্পিনার হার্মারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ঋষভও। দুর্গরক্ষায় তখন একা ওয়াশিংটন। জাড্ডুর সঙ্গে জুটিতে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা ফিরতেই ম্যাচের রাশ চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে।  শেষ দিকে অক্ষর প্যাটেল ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে জয়ের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু এই পিচে সব বলে চার-ছক্কা হাঁকাতে যাওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু। সেটাই ঘটেছে। ১৭ বলে ২৬ করে তিনি ধরা পড়েন বাভুমার হাতে। তারপর সিরাজ স্লিপে ক্যাচ দিতেই লড়াই শেষ। জোড়া উইকেট নিয়ে কেশব মহারাজ তখন ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছেন মাঠ জুড়ে। বাভুমাকে ঘিরে শুরু হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিজয়োৎসব। ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট জয় বলে কথা।
এই হারে কি টনক নড়বে বিসিসিআই কর্তাদের? কোচ গম্ভীরকে কি এবার সতর্ক করা হবে? নাকি ‘আভি তো হামে আওর জলিল হোনা হ্যায়’ গান বাজতেই থাকবে?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ