অপরাধের পুনর্নির্মাণে গিয়ে বারবার কেন ছিনতাই হচ্ছে পুলিশের পিস্তল? উর্দিধারীদের ‘দক্ষতা’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে!
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুরু হয়েছিল বারুইপুরের সূর্যপুর দিয়ে। জুলাইয়ের পর অক্টোবর। মঙ্গলবার ভোররাতে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা আর ভরদুপুরে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে জনসমক্ষে এনকাউন্টারের ঘটনার সাক্ষী রইল গোটা রাজ্য। সুর্যপুর ও গাইঘাটায় নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনে জড়িত দু’জন এনকাউন্টারে খতম। ধুলিয়ানে সিআইডির হাতে নিকেশ হওয়া ব্যক্তি এক বিজেপি কর্মীকে অপহরণ-খুন ও দেহ লোপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত। তিন জায়গাতেই পুলিশ অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণে গিয়েছিল। তিনটি ঘটনাতেই অদ্ভুত মিল রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশের রিভালভার কেড়ে নিয়ে ডিউটিরত অফিসারদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করেছে। আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালিয়েছে পুলিশ।  কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, অভিযুক্তকে নিয়ে পুনর্নির্মাণে যাওয়া পুলিশ টিমের সদস্যদের রিভলভার কেন বারবার ছিনিয়ে নিতে পারছে অভিযুক্তরা? প্রশিক্ষণেই ঘাটতি, নাকি অসতকর্তা! নেপথ্যের কারণ খুঁজতে কাটাছেঁড়া শুরু করেছেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। 

Advertisement

পূর্বতন সিআরপিসির ধারায় অভিযুক্তকে হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের উপর নির্ভর করতে হত পুলিশকে।  বিএনএসের ৪৩ (৩) ধারায় উল্লেখ করা রয়েছে, ধর্ষণ, খুন, নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের মতো ঘটনায় হাতকড়া পরানো যাবে অভিযুক্তদের। সূর্যপুর, বারুইপুর ও ধুলিয়ান তিন জায়গাতেই অভিযুক্তদের হাতে হাতকড়া ছিল না বলেই খবর। পুলিশ মহলের একাংশের প্রশ্ন, হাতকড়া না পরিয়ে কীভাবে পুলিশ ভ্যানে তোলা ও পুনর্নিমাণের জায়গায় নামানো হলো তাদের? বিশেষত গভীর অন্ধকারে যখন তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হাতকড়া অবশ্যই পরানো উচিত ছিল।  তাহলে তার পক্ষে পুলিশের রিভালভার ছিনতাই করা সম্ভব হত না। একইসঙ্গে তাদের বক্তব্য, হাতকড়া পরানো না থাকলেও, অভিযুক্তদের যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত, সেটা হচ্ছে না। অভিযুক্তদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন রয়েছে। অপরাধীর দুই পাশে সশস্ত্র পুলিশ কর্মীরা থাকবেন এবং তার মুভমেন্টের উপর নজর রাখতে হবে। কিন্তু এনকাউন্টারের ওই তিন জায়গায় কোথাও তা দেখতে পাওয়া যায়নি বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য আসছে। অর্থাৎ ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের অসতর্কতার বিষয়টি সামনে আসছে। রাজ্য পুলিশে দীর্ঘদিন কাজ করা অফিসারদের কথায়, ট্রেনিংয়ের সময় তাঁদের শেখানো হয় কীভাবে রিভলভার ধরতে হবে। সেই কৌশল এমনভাবে শেখানো হয়, যাতে কেউ চাইলেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিতে না পারে। জানা যাচ্ছে, মমতা জমানায় পুলিশের ট্রেনিং কার্যত লাটে উঠেছিল। এমনকি থানার অফিসারদের ফায়ারিং অনুশীলন নিয়মিত হত না। কৌশলগত ভুল থাকার কারণেই অভিযুক্তরা বারবার আর্মস ছিনতাই করতে পারছে বলে মনে করছেন পুলিশের একটা বড় অংশ। এই ঘটনাগুলি থেকে শিক্ষা নিয়েই নতুন সরকার ট্রেনিংয়ের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। যাতে গোড়ায় গলদ না থাকে।