সংবাদদাতা, দেওয়ানহাট ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: বাংলার বাসিন্দার কাছে এসেছে অসম সরকারের পাঠানো এনআরসির নোটিস। আর সেই নোটিস বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে বাংলারই পুলিসকর্মী। অথচ শীর্ষস্তরে সেই নোটিসের বিষয়টি কেন জানানো হয়নি, তা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ নবান্ন। প্রাণ থাকতে বাংলায় লাগু করতে দেবেন না এনআরসি—প্রত্যয়ী ঘোষণা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এহেন ঘোষণার পরেও কীভাবে দিনহাটা থানার পুলিস নবান্নকে না জানিয়ে উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে এনআরসি’র নোটিস সরবরাহ করল, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকী নোটিস পাওয়ার পর উদ্বিগ্ন উত্তমকুমার যখন পুলিস প্রশাসনের দরজায় দরজায় হত্যে দিচ্ছিলেন, তখনও কেন এত গুরুতর বিষয়টি নবান্নের শীর্ষস্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়নি, প্রশ্ন তা নিয়েও। এই আবর্তে মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য তথা দ্য গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা অনন্ত মহারাজ। তাঁর কথায়, উত্তমকুমার ব্রজবাসী ভূমিপুত্র । সে নথি দেখাবে কেন? তাঁর কাছ থেকে এমন ধারাবাহিক প্রমাণপত্র চাওয়া ঠিক নয়। কেউই তা দিতে পারবেন না। আমার মনে হয়, এসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনন্ত মহারাজের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের পূর্বপুরুষের শংসাপত্র দেখাতে পারবেন তো?
অসমের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দিনহাটার উত্তমকুমার ব্রজবাসীর উদ্দেশ্যে নোটিসটি ইস্যু হয়। ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে কোচবিহার পুলিস সুপারের অফিস হয়ে দিনহাটা থানার মাধ্যমে সেই নোটিস উত্তমকুমারের বাড়িতে পৌঁছে যায়। নোটিস পাওয়ার পর থেকে উদ্বিগ্ন দিনহাটার সাদিয়ালেরকুঠির বাসিন্দা উত্তমকুমার পুলিস প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছিলেন। সেসময়ও স্থানীয় পুলিস বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের নজরে কেন আনেনি, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে শীর্ষস্তর থেকে। যদিও বিষয়টি জানার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজেই মঙ্গলবার একটি ট্যুইট করে উত্তমকুমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বাংলার বাসিন্দাকে অসম সরকারের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল অনুপ্রবেশের নোটিস ধরানোয় বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটি গণতন্ত্রের উপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক সুরক্ষাকে ধ্বংস করে বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার বিজেপি অপচেষ্টা বলেও তোপ দাগেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। যদিও এবিষয়ে কোচবিহারের পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই চটে যান। তিনি বলেন, আমি এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্যই করব না। দিনহাটার বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেন, নোটিস আসার পরেও পুলিস সব জেনেও কেন এতদিন রাজ্যকে জানাল না, সেটা পুলিসই বলতে পারবে। আমরা ঘটনাটি জানার পর থেকেই প্রতিবাদে পথে নেমেছি।
অপরদিকে উত্তমকুমার ব্রজবাসী বলেন, ওই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই ভয়ে আতঙ্কে দিন কেটেছে। কীভাবে কী করব, বুঝতে পারছিলাম না। সবাইকে জানিয়েছিলাম। থানায় যোগাযোগ করেছি, বিডিও অফিসেও গিয়েছিলাম। তখন কেউ গুরুত্ব দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী পাশে দাঁড়িয়েছেন শুনে এখন অনেকটাই ভরসা পাচ্ছি। মঙ্গলবার বাড়িতে গাড়ি পাঠিয়ে আমাকে ডেকে নিয়ে যান বিডিও। তাঁকেও গোটা ঘটনাটি জানিয়েছি।