Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার পাঁচটি খুলি কার? ১৫ বছর পরও জারি রহস্য, স্টিফেন কোর্ট মামলা থেকে অব্যাহতি চান অভিযুক্তরা

স্টিফেন কোর্টে ২০১০ সালের ২৩ মার্চ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৩৭টি মৃতদেহ। একইসঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলেছিল পাঁচটি মানব খুলি।

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার পাঁচটি খুলি কার? ১৫ বছর পরও জারি রহস্য, স্টিফেন কোর্ট মামলা থেকে অব্যাহতি চান অভিযুক্তরা
  • ৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: স্টিফেন কোর্টে ২০১০ সালের ২৩ মার্চ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৩৭টি মৃতদেহ। একইসঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে মিলেছিল পাঁচটি মানব খুলি। ডিএনএ টেস্টের পাশাপাশি বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা সত্ত্বেও জানা যায়নি ওই খুলিগুলো কাদের। রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি গত ১৫ বছরেও। এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও, কোনও ব্যক্তির নিখোঁজ সংক্রান্ত ‘মিসিং ডায়েরি’ও জমা পড়েনি সংশ্লিষ্ট শেক্সপিয়র সরণি থানায়। এই আবর্তেই শুক্রবার বিচারভবনের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে অভিযুক্তদের কৌঁসুলিরা নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি সামনে এনে মামলা থেকে তাঁদের মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৮ আগস্ট।  

Advertisement

অগ্নিকাণ্ডের মামলার দুই সরকারি কৌঁসুলি গণেশ মাইতি ও অমলেন্দু চক্রবর্তী জানান, ২০১০ সালে ২৩ মার্চ স্টিলেন কোর্টে ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। মামলায় পুলিস ছ’জনকে অভিযুক্ত করে। বর্তমানে সকলেই জামিনে আছেন। পুলিস ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় চার্জশিট দেয়। মামলাটি বিচারের জন্য আসে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট থেকে বিচারভবনে। সেখানে নানা আইনি গেরোর কারণে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে লেগে যায় বছরের পর বছর। সরকারি কৌঁসুলি বলেন, ‘আমরা চাই এমন একটি স্পর্শকাতর মামলা দ্রুত চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার। কিন্তু সে ক্ষেত্রে নানা আইনি জটিলতার করণে যদি শুনানি থমকে থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী থাকতে পারে।’ এদিকে, এরই মধ্যে সম্প্রতি ছয় অভিযুক্তের কৌঁসুলিরা তাঁদের মক্কেলদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আদালতে আর্জি জানান। এদিন সেই সংক্রান্ত শুনানিই ছিল। সেখানে কৌঁসুলিদের বক্তব্য ছিল, সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করে তাঁদের মনে হয়েছে, মামলায় এমন কিছু নেই যে তাঁদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে শুনানি চলতে পারে। তাই তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। দুই সরকারি কৌঁসুলি ওই বক্তব্যের জোরালো আপত্তি জানান। তাঁরা বলেন, এমন একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এত সংখ্যক মানুষ মারা গেলেন। পুলিসি তদন্তেও উঠে এসেছে 
সংশ্লিষ্ট ছ’জনের বিরুদ্ধে একরাশ গাফিলতির অভিযোগ। তাহলে এমন ঘটনাকে কখনই ‘লঘু’ করে দেখানোটা ঠিক নয়। মামলার চার্জশিটেও 
রয়েছে এই মামলায় যথেষ্ট তথ্য‑প্রমাণ। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে মামলার শুনানি চালানোতে নেই কোন সমস্যা। আদালত সূত্রের খবর, মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নিয়ে অভিযুক্তদের ওই আর্জির বিষয়ে  শুনানি হবে। তারপরই এই বিষয়ে রায় দেওয়ার কথা আদালতের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ