Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সংস্কৃত পড়াবেন কে? ছাত্রদের প্রশ্নে চুপ স্কুল

সংস্কৃত পড়াবেন কে? ছাত্রদের প্রশ্নে চুপ স্কুল
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সবে শুরু দ্বাদশের সিলেবাস। সাকুল্যে গোটা তিনেক ক্লাস হয়েছে। এরই মধ্যে বিপর্যয়!

Advertisement

চাকরি বাতিলের তালিকায় নাম থাকায় স্কুলে আসা ছেড়েছেন শিক্ষক। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের প্রশ্ন, এবার সংস্কৃত পড়াবেন কে? আমরা পরীক্ষা দেব কীভাবে? উত্তর দিতে পারছেন না জলপাইগুড়ির পূর্বাঞ্চল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ নিয়োগী। কারণ, একই প্রশ্নের উত্তর হাতড়াচ্ছেন তিনিও। স্কুলে একাদশ-দ্বাদশে সংস্কৃত পড়ানো হয়। এই মুহূর্তে দ্বাদশের প্রায় ৫০ জন পড়ুয়ার সংস্কৃত রয়েছে। কিন্তু স্কুলে ওই বিষয় পড়ানোর মতো শিক্ষকই নেই!  শিক্ষক না থাকলে তো একাদশে ভর্তি নেওয়াও যাবে না।
এদিকে, স্কুলের পাশাপাশি চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে চাকরি হারানো ওই শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাসের জীবনে। তিনি কৃষক পরিবারের সন্তান। পরিবারে প্রথম ও একমাত্র সরকারি চাকরিজীবী। ভাই এমএ-বিএড। কিন্তু, সরকারি চাকরি পাননি। বিহারের কিষাণগঞ্জে একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ান তিনি। ফলে গোটা পরিবারের ভরসা ছিলেন বিশ্বজিৎ। পার্সোনাল লোন নিয়ে জলপাইগুড়ি অসম মোড়ের কাছে বাড়ি তৈরির জন্য একফালি জমি কেনেন। ইএমআই ২২ হাজার টাকারও বেশি। সংসার চালিয়ে কীভাবে এখন ওই লোনের ইএমআই দেবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। যোগ্য-অযোগ্য বিবেচনা না করে একঝটকায় এভাবে চাকরি চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
বিশ্বজিতের বাড়ি তুফানগঞ্জে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃতে মাস্টার্স করেছেন। রয়েছে বিএড ডিগ্রি। স্কুলে চাকরি পাওয়ার আগে জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে বছর পাঁচেক পড়িয়েছেন।
এসএসসি দিয়ে প্রথমে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে ফতেপুর হাইস্কুলে চাকরি পান বিশ্বজিৎ। প্রায় পাঁচমাস চাকরি করেন সেখানে। এরপর ২০১৯ সালে গঙ্গারামপুরের একটি স্কুলে চলে আসেন তিনি। বাড়ির কিছুটা কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকে ২০২১ সালে মিউচুয়াল ট্রান্সফার নিয়ে আসেন জলপাইগুড়িতে। কিন্তু জীবনে এতবড় বিপর্যয় যে অপেক্ষা করছে, ভাবতে পারেননি। রাজ্য ও এসএসসি কমিশনের উপরেই এখন ভরসা রাখছেন তিনি।
রবিবার বিশ্বজিৎ বলেন, আমাদের কৃষক পরিবার। চাষাবাদ করেই বাবা আমাকে পড়িয়েছেন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরীক্ষা, ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছি। অথচ সেই চাকরি বাতিলের তালিকায় পড়ে গেলাম। খবরটা শোনার পর থেকে বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। স্ত্রী গৃহবধূ। সাড়ে তিন বছরের সন্তান রয়েছে আমাদের। আগামী দিনগুলো কীভাবে চলবে জানি না।
জলপাইগুড়ির পূর্বাঞ্চল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিতাভ নিয়োগী বলেন, আমাদের স্কুলে এমনিতেই শিক্ষকের ঘাটতি। পরিবেশবিদ্যা ও এডুকেশন বিষয় দু’টি থাকলেও সরকারি তরফে শিক্ষক নেই। সেকারণে আমরা পার্শ্বশিক্ষক দিয়ে সাবজেক্ট দু’টি ধরে রেখেছি। একইভাবে স্কুল তহবিল থেকে দর্শনের শিক্ষকের সাম্মানিক দিতে হয়। এখন সংস্কৃত শিক্ষকও ফাঁকা হয়ে গেল স্কুলে। পড়ুয়ারা আমাকে প্রশ্ন করছে। ওদের কী উত্তর দেব, বুঝতে পারছি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ