Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উদ্ধার করবে কে? ৫ ঘণ্টা গাছেই ঝুলে রইল মৃতদেহ, দুই থানা ও রেল পুলিসের টানাপোড়েন ঘিরে বিতর্ক

উদ্ধার করবে কে? ৫ ঘণ্টা গাছেই ঝুলে রইল মৃতদেহ, দুই থানা ও রেল পুলিসের টানাপোড়েন ঘিরে বিতর্ক

উদ্ধার করবে কে? ৫ ঘণ্টা গাছেই ঝুলে রইল মৃতদেহ, দুই থানা ও রেল পুলিসের টানাপোড়েন ঘিরে বিতর্ক
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দমদম ও বেলঘরিয়া স্টেশনের মাঝে রেললাইনের পাশে গাছ থেকে ঝুলছে মৃতদেহ। জায়গাটি ৩০এ বাসস্ট্যান্ডের অদূরে। এমন ঘটনা নজরে আসার পর খবর যায় বারাকপুর কমিশনারেটের দমদম থানা ও কলকাতা পুলিসের সিঁথি থানায়। রেললাইনের পাশে হওয়ায় খবর পৌঁছয় দমদম জিআরপিতেও। কিন্তু গাছ থেকে দেহ নামাবে কে? তা নিয়ে শুরু হয় বেনজির টানাপোড়েন। ওই অবস্থায় দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা গাছে ঝুলতে থাকল দেহ। অবশেষে সেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল সিঁথি থানার পুলিস। লালবাজার জানিয়েছে, মৃতের নাম প্রশান্ত সাহা (২৬)। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার বাসিন্দা তিনি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিঁথি থানার পুলিস। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন রিকশওয়ালা দেখেন, ট্রেন লাইনের ধারে গাছ থেকে ঝুলছে এক ব্যক্তির দেহ। গলায় দড়ির ফাঁস। নিমেষে সেই খবর চাউর হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান। জায়গাটি রেললাইন লাগোয়া হওয়ায় সবার আগে খবর পায় দমদম জিআরপি। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিস। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা বুঝতে পারে, এলাকাটি রেল পুলিসের আওতাভুক্ত নয়। খবর যায় দমদম থানা ও সিঁথি থানায়। দুই থানা থেকে পুলিস সেখানে পৌঁছয়। এলাকাবাসীর দাবি, কোনও পক্ষই দেহ উদ্ধারে রাজি ছিল না প্রথমে। স্থানীয় বাসিন্দা অজয় সমাদ্দার বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে দেখছি, পুলিস আসছে-যাচ্ছে, কিন্তু দেহ নামাচ্ছে না কেউ।  পুলিসই একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপাতে ব্যস্ত।’ 

Advertisement

সূত্রের খবর, দমদম ও সিঁথি থানার পুলিসকর্মীরা সেখানে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। কারা দেহ উদ্ধার করবে, সেই প্রশ্নের সমাধান হল কীভাবে? পদস্থ পুলিস আধিকারিকরা ওই এলাকার ম্যাপ বের করেন। ৩০এ বাসস্ট্যান্ডের কাছের ওই এলাকা কাদের আওতায়, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে। শেষমেশ দেখা যায়, ওই এলাকা কলকাতা পুলিসের অন্তর্গত। তাই সিঁথি থানাই শেষ পর্যন্ত দেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ গাছ থেকে দেহ নামানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সিঁথি থানার পুলিস দেহ উদ্ধার করে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন দেগঙ্গার বাসিন্দা ওই যুবক। 
প্রসঙ্গত, রাজ্য পুলিস ও কলকাতা পুলিস এলাকায় দেহ উদ্ধারের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। কোনটা কার এলাকা, এই প্রশ্নে টালবাহানা না করার আদেশও রয়েছে। তারপরও কীভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাছে ঝুলল মৃতদেহ, আর নীচে গভীর আলোচনায় ব্যস্ত রইলেন পুলিস অফিসাররা? উঠছে প্রশ্ন। লালবাজারের এক কর্তা অবশ্য বলেন, ‘দেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ