Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘পুলিশ কার হয়ে কাজ করছে?’ প্রশ্ন তুললেন মন্ত্রী শোভনদেব

খড়দহের বন্দিপুরে এক যুবককে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ঘটনার পরদিনই পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল।

‘পুলিশ কার হয়ে কাজ করছে?’  প্রশ্ন তুললেন মন্ত্রী শোভনদেব
  • ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: খড়দহের বন্দিপুরে এক যুবককে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। ঘটনার পরদিনই পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। শনিবার আক্রান্ত যুবকের বাড়িতে এসে রহড়া থানার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি জানি না, পুলিশ কার দালালি করছে? সমাজবিরোধীদের? নাহলে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়বে কেন? এতদিন তো সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। খোদ মন্ত্রী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এনিয়ে শাসকদল ও পুলিশ মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার রাতে রহড়া থানার বন্দিপুরের ডাঙাদিঘলা এলাকার বাসিন্দা সুরজ খানকে মদের আসরে ডেকে এনে পেটে ছুরি চালিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত শেখ হাবিবুলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছিল। অসুস্থ সুরজ বর্তমানে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তখনই আক্রান্তের মা মন্ত্রীর কাছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর পুলিশকে নিশানা করেন শোভনদেববাবু বলেন, ‘কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে। আক্রান্ত যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবে। হাসপাতালে গিয়ে সবকিছু দেখবে। এটাই তো হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু, পুলিশ এসব কিছুই করল না। উল্টে, পুলিশ নাকি বলছে মিটমাট করে নিতে। পুলিশ কার হয়ে দালালি করছে? সমাজবিরোধীদের হয়ে পুলিশ কি দালালি করবে? পুলিশের তো আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। আমি জানি না, এখানে পুলিশের কে এসে একথা বলেছেন? খড়দহকে সমাজবিরোধী মুক্ত করতে আমি সবসময় চেষ্টা করে চলেছি। কিন্তু, দু’-চার জন সমাজবিরোধীর জন্য গোটা এলাকার বদনাম হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।  একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পুলিশ সঠিকভাবে চললে বড় কোনও গণ্ডগোল হতে পারে না। বড়জোর টুকটাক ঝামেলা হতে পারে। তার মানে এই নয় যে, কাউকে প্রাণে মারার চেষ্টা হবে। তাই, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা তো অবশ্যই রয়েছে। তা না হলে হঠাৎ কেন এই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বাড়বে? এতদিন তো দেখা যায়নি। এর জন্য যতদূর যাওয়ার, ততদূর যাব।’ যদিও পুলিশের দাবি, আক্রান্ত যুবকের নামে অনেক আগে থেকে রহড়া থানায় দুষ্কৃতীমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। যারা মেরেছে, তারাও এলাকার বাসিন্দা। তাদের সঙ্গে আক্রান্ত যুবক মদের আসরে যেত। ঘটনার দিন মদের আসরেই এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ