Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেওয়াল লিখনে সুনীল, প্রচারে নেমেছেন শংকর! বেহালা পূর্বে বিজেপির প্রার্থী কে? অন্ধকারে ভোটারকুল

একই কেন্দ্রে কি বিজেপির দু’জন প্রার্থী দাঁড়াচ্ছেন? ভোট দোরগড়ায় কিন্তু বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা এখনও আছেন বিভ্রান্তিতে।

দেওয়াল লিখনে সুনীল, প্রচারে নেমেছেন শংকর!  বেহালা পূর্বে বিজেপির প্রার্থী কে? অন্ধকারে ভোটারকুল
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একই কেন্দ্রে কি বিজেপির দু’জন প্রার্থী দাঁড়াচ্ছেন? ভোট দোরগড়ায় কিন্তু বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটাররা এখনও আছেন বিভ্রান্তিতে।

Advertisement

সাদা  দেওয়াল। তাতে গেরুয়া রঙে আঁকা পদ্মফুল। বড়ো করে লেখা প্রার্থী সুনীল মহারাজের নাম। আবার এই কেন্দ্রেই টাঙানো বড়ো আকারের ফ্লেক্স। তাতে নরেন্দ্র মোদির ছবি। লেখা, শংকর সিকদারকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিন। একই বিধানসভার দুই দৃশ্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে দস্তুরমতো। গলির ভিতরের অংশে দেওয়াল লিখন হয়ে গিয়েছে বহুদিন আগে। তখন এই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে সুনীল সিং ওরফে সুনীল মহারাজের নাম ঘোষণা করেছিলেন বিজেপির দিল্লির নেতারা। পাঁচ এপ্রিল তারা প্রার্থীর নাম দেন বদলে। তারপর ৬ এপ্রিল থেকে বেহালা পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত জেমস লং সরণিতে শংকর সিকদারের সমর্থনে একাধিক পোস্টার পড়তে শুরু করে। বিজেপি প্রার্থী বদল করে দিলেও শীলপাড়া, ঠাকুরপুকুর, হরিদেবপুরের অলিগলিতে থেকে যায় বাতিল সুনীল মহারাজের সমর্থনের দেওয়াল লিখন। বহু স্থানীয় বাসিন্দা এখনও জানেন, সুনীল মহারাজই বেহালা পূর্বে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন। 
যেমন ঠাকুরপুকুরের পূর্বাচলের বাসিন্দা প্রসেন দাস। তাঁর বাড়ির পাশেই হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির। সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এখনও দেওয়ালে উজ্জ্বল সুনীল মহারাজের নাম। প্রসেনবাবু বলেন, ‘সুনীল মহারাজ তো এখানে এসে প্রচারও করে গিয়েছেন। তিনি লড়ছেন না! সে কি! তাহলে কে লড়ছেন?’ বেহালা পূর্ব বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হল গৌড়নগর, সারদাপল্লি। সেখানে দেওয়াল লিখনে তৃণমূল বিরোধী স্লোগান। আর রাস্তার দু’পাশে গেরুয়া রঙে লেখা সুনীল মহারাজের নাম। সেখানকার বাসিন্দারা বললেন, ‘১৫ দিনও হয়নি বিজেপি তাদের প্রার্থী ঠিক করেছে। তার মধ্যে আবার বদলেও দিল। সুনীল মহারাজের নাম তাহলে ঘোষণা করল কেন দিল্লি বিজেপি?’ তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব বলে, ‘সাধু-সন্ত দিয়ে তো আর বাংলায় ভোট পাওয়া যায় না। তা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরই বিজেপি বুঝেছে এলাকায় কোনও সাড়া পাচ্ছে না। সুনীল মহারাজ প্রথম যেদিন জেমস লং সরণিতে প্রচারে বের হন সেদিন ওঁর সঙ্গে সাকুল্যে ১৪ জন কর্মী ছিল। এই ফিডব্যাক পেয়েই প্রার্থী বদল করেছে বলে মনে হয়। যদি তাতেও লাভ হবে না।’
এই বিধানসভা কেন্দ্রের ১২৪ ও ১২৫ নম্বর ওয়ার্ডে বহু মতুয়া ভোট আছে। দেরি করে নাম ঘোষণা হওয়ায় দ্বিতীয় প্রার্থী শংকর সিকদার প্রচারে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় বেশি যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, ‘শেষমুহূর্তে প্রচারে জোর দিতে চাইছেন শংকর। সময় কম বলে এই বিধানসভার সর্বত্র পৌঁছনো সম্ভব হবে না ওঁর পক্ষে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ