সংবাদদাতা, বজবজ: পুজালির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গঙ্গার ধারে জেটিঘাট তৈরি হতে পুজো পেরিয়ে যাবে। এর জন্য আড়াই কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু তৈরি হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কে দেবে? রাজ্যের পরিবহণ দপ্তর জেটিঘাট তৈরির ব্যয়ভার বহন করলেও তারা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক নয়। আবার পুজালি পুরসভা ও হাওড়া জেলা পরিষদ তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে এনিয়ে জট কাটেনি আলোচনায়।
রাজীব জেটিঘাট পুজালি পুরসভার অংশ। তবে এর পরিচালন ব্যবস্থা থেকে যাবতীয় দায়িত্ব হাওড়া জেলা পরিষদের। স্বাভাবিকভাবেই রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বর্তায় তাদের উপর়। ইতিমধ্যেই পরিবহণ দপ্তর এ নিয়ে হাওড়া জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করলেও তারা জানিয়ে দিয়েছে, উলুবেড়িয়া ও পুজালি— দু’টি জেটিঘাটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তারা নিতে পারবে না। তারা শুধু উলুবেড়িয়ার দিকের জেটির দায়িত্ব নিতে পারবে। রাজীব জেটিঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হোক পুজালি পুরসভাকে। উলুবেড়িয়ায় বসে ওপারের জেটিঘাটের উপর নজরদারি চালানো কঠিন। বরং এই কাজ পুজালি পুরসভার পক্ষে করা অনেক সহজ।
এ নিয়ে দোলাচলে পুজালি পুরসভা। কারণ, এতবড় কংক্রিটের জেটি প্রতিদিন রক্ষণাবেক্ষণ করতে হলে মোটা টাকার খরচ। সাফাইয়ের জন্য লোক রাখতে হবে। তাঁর বেতন সহ আনুষঙ্গিক খরচ, শৌচাগার পরিষ্কারের খরচ বহন করতে হবে পুরসভাকে। পাশাপাশি রয়েছে বিদ্যুতের খরচ। সব মিলিয়ে মাসে ব্যয় হবে লক্ষাধিক টাকা। এক আধিকারিক বলেন, এত টাকা খরচ করার সামর্থ্য আমাদের মতো ছোট পুরসভার নেই। পরিবহণ দপ্তর আর্থিক সাহায্য করলে আমরা দায়িত্ব নিতে পারি। না হলে সম্ভব নয়। তবে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে পরিবহণ দপ্তর। তারা বলেছে, নদী পারাপারে টিকিট বিক্রি থেকে যে আয় হবে, তা পুজালি ও হাওড়া জেলা পরিষদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ পুজালি ও হাওড়া জেলা পরিষদ এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি।