নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে জয়েশ-ই-মহম্মদের মডিউলের সক্রিয় সদস্য কারা, তা জানতে এই জঙ্গি সংগঠনের ক্লোজড গ্রুপ, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ও ইউটিউব চ্যানেলগুলিতে নজর গোয়েন্দাদের। এরমধ্যে কোনও চিকিৎসক রয়েছেন কি না, সেটা খুঁজে দেখতে চাইছেন তাঁরা। একইসঙ্গে বাংলাদেশে জয়েশের হয়ে কাজ করা সদস্যদের মধ্যে কেউ এখানে তৎপরতা বাড়িয়েছে কি না, সেটা জানতে বিভিন্ন জায়গা থেকে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জয়েশের নাম উঠে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়া মহিলা চিকিৎসক শাহিন শাহিদকে দেশে জয়েশের মহিলা বাহিনীর চিফ প্রধান করেছে খোদ মাসুদ আজাহারের বোন। সেই সঙ্গে গোয়েন্দাদের চিন্তা বাড়িয়েছে এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে চিকিৎসকদের যোগ। শিক্ষিত ও হোয়াইট কলার পেশায় যুক্তদের নিয়ে আলাদা মডিউলই তৈরি করেছে তারা। গোয়েন্দারা মনে করছেন শুধু উত্তর ভারত বা কাশ্মীর নয়, দেশ জুড়েই তারা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য অনুযায়ী, বছর খানেক আগে সংগঠনে বিপুল সংখ্যক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তার জন্য নিত্য নতুন নতুন অ্যাপ তৈরি করছে। সেই সঙ্গে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে শিক্ষিত যুবকদের দিয়ে প্রোফাইল খোলাচ্ছে জয়েশের মাথারা। সোশ্যাল সাইটে পড়াশুনায় সাহায্য করার নাম করে একাধিক প্রোফাইল খুলেছে। তার আড়ালে মগজ ধোলাই চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অ্যাডমিশন টেস্টে বসার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, তার জন্য নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে জয়েশের। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে মগজ ধোলাইয়ের পর বাছাই করা ছেলেদের নিজস্ব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করানো হচ্ছে। সেখানে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংগঠনের হয়ে কাজ করা চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়াররা। যাতে এই সমস্ত পেশায় লোকজনকে সামনে রেখে নিজেদের মতাদর্শ ছড়িয়ে আরও বেশি লোকজনকে সংগঠনে টেনে আনা যায়।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জেনেছেন, কিছুদিন আগেই জয়েশ প্রধান মাসুদ আজাহার বাংলাদেশে সংগঠন বাড়ানোর জন্য জোর দিয়েছে। সেই কারণে চিন্তা বেড়েছে তাঁদের। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে এই রাজ্যের বড় সীমান্ত রয়েছে। জয়েশের এই রাজ্যে কোনও মডিউল চলছে কি না, জানতে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের উপর। এখানে তাদের একাধিক ক্লোজড গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপগুলির উপর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেখানে কী ধরনের আলোচনা চলছে, কারা কারা এই রাজ্যে জয়েশকে নিয়ন্ত্রণ করছে, মাথা কারা, সেগুলি জানার চেষ্টা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে সংগঠনের জন্য তহবিল জোগাড়ের কাজ চলছে কি না, সেই নিয়ে বিশদে তথ্য জোগাড় চলছে। গোয়েন্দাদের দাবি এখান থেকে টাকা উত্তর ভারতে জয়েশের বিভিন্ন মডিউলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর এক্ষেত্রে এই রাজ্যে চিকিৎসক বা হোয়াইট কলার পেশায় যুক্তদের সংগঠনে টেনে এনে জঙ্গি কার্যকলাপ করানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশেষ নজরদারি চলছে।